kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

সেতুর ওপর সাঁকো বানিয়ে চলাচল

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

৩১ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেতুর ওপর সাঁকো বানিয়ে চলাচল

বাগেরহাটের শরণখোলার ধানসাগর ইউনিয়নের ধানসাগর খালের ওপর ১৯৯৮ সালে নির্মিত স্লিপার ব্রিজের পাটাতন ভেঙে গেছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাগেরহাটের শরণখোলার ধানসাগর গ্রাম ও বানিয়াখালীর মধ্যকার সংযোগ সেতুর অনেক পাটাতন ভেঙে গেছে। ফলে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সেতুটি। এ অবস্থায় সেতুর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে গ্রামবাসী। শুধু এই সেতুটিই নয়, উপজেলার চারটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধশত সেতু, কালভার্ট ও লোহার পুল চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

যুগ যুগ ধরে এসব অবকাঠামোর উন্নয়ন না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরম পর্যায় পৌঁছেছে। এতে মানুষের মধ্যে বেড়েছে ক্ষোভ।

সরেজমিনে ঘুরে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শরণখোলার সাউথখালী ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডেই পাঁচটি স্লিপার ব্রিজ সম্পূর্ণ অকেজো। অন্যদিকে খোন্তাকাটা ইউনিয়নের মাত্র তিন কিলোমিটার সড়কে পাঁচটি বক্স কালভার্ট ও একটি গার্ডার ব্রিজ চলাচলের অনুপযোগী। সব মিলিয়ে উপজেলার অর্ধশত ব্রিজ, কালভার্ট ও লোহার পুল চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব ব্রিজ-কালভার্টের মধ্যে বেশ কয়েকটি ২০০৭ সালের সিডরে বিধ্বস্ত হওয়ার পর আর মেরামত করা হয়নি। আবার কোনোটি আধা ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভাঙাচোরা এসব সেতু-কালভার্ট এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

শরণখোলা উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের তথ্য মতে, খোন্তাকাটা ইউনিয়নের নলবুনিয়া-জানেরপাড় তিন কিলোমিটার সড়কে ছয়টি বক্স কালভার্ট ও একটি সেতু রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি বক্স কালভার্টই ভেঙে গেছে। শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ উপজেলার সীমানার ধানসাগর গ্রাম ও বানিয়াখালী সংযোগ খালের ওপর স্লিপার ব্রিজটি নির্মাণ হয় ১৯৯৮ সালে। দুই উপজেলার টানাটানিতে সেতুটি একবারও মেরামত করা হয়নি। বর্তমানে সেতুটির ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ।

উপজেলা সদর রায়েন্দা খালের ওপর সেতুটি গত ১৭ আগস্ট ভেঙে যায়। সেই থেকে প্রায় তিন মাস ধরে ভাঙা সেতুটি খালে পড়ে আছে। সেটি অপসারণ না করায় নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। খাদা-দীপর সংযোগ খালের ১০০ ফুট আয়রন ব্রিজটি কয়েক বছর ধরে ভেঙে পড়ে আছে। সাউথখালী ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া ওয়ার্ডের পাঁচটি স্লিপার ব্রিজ অকেজো। অন্যদিকে শরণখোলা উপজেলা পরিষদের সামনের খালের ওপর ৮০ মিটার দীর্ঘ স্লিপার ব্রিজটি ছয়-সাত বছর আগে ভেঙে গেছে। এখন দড়িটানা খেয়ার মাধ্যমে এলাকাবাসী খালটি পারাপার হচ্ছে।

এ ব্যাপারে চালিতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষক নজরুল ইসলাম আকন, উত্তর রাজাপুর গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী আসিফ খান, বগী দশঘর গ্রামের ব্যবসায়ী আ. রাজ্জাক, বিনয় সিংহসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্টের অবস্থা দেখে নিজেদের লজ্জা পেতে হয়। বর্তমানে সারা দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে, কিন্তু শরণখোলায় এখনো বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে! যোগাযোগ উন্নয়ন খাতে প্রতিবছর সরকারের কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যবহার হলে এমন অবস্থা থাকার কথা নয় বলে মনে করেন তাঁরা।

শরণখোলা উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মতিন বলেন, ‘তাফালবাড়ী বাজারসংলগ্ন খালের ব্রিজটির নির্মাণকাজ অল্প দিনের মধ্যেই শুরু হবে। উপজেলা পরিষদের সামনের খালের ব্রিজটিও নির্মাণের জন্য প্রক্রিয়াধীন। ’



সাতদিনের সেরা