kalerkantho

সোমবার ।  ২৩ মে ২০২২ । ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২১ শাওয়াল ১৪৪৩  

শপথ অনুষ্ঠানে মেম্বার পেলেন এসএসসি পাসের খবর

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

৩১ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শপথ অনুষ্ঠানে মেম্বার পেলেন এসএসসি পাসের খবর

মো. রফিকুল ইসলাম

ফুলবাড়িয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের গতকাল শপথ অনুষ্ঠান চলাকালে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। শপথ অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. রফিকুল ইসলাম খবর পান, তিনি এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৪৬ পেয়ে পাস করেছেন।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড থেকে সদস্য পদে (মেম্বার) তালা প্রতীক নিয়ে ৪৭৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন রফিকুল ইসলাম। তাঁর বয়স ৫৭ বছর।

বিজ্ঞাপন

অষ্টম শ্রেণির ছাত্র থাকা অবস্থায় অসুস্থতার কারণে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে যান তিনি।

পরে আর লেখাপড়া করতে পারেননি। তবে তাঁর প্রবল ইচ্ছা অন্তত এসএসসি পাস করার। তাই ভোকেশনাল কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আছিম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন রফিকুল ইসলাম। অবশেষে চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করলেন তিনি। গতকাল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাঁকে মোবাইল ফোনে জানান, তিনি জিপিএ ৪.৪৬ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। একদিকে ইউপি সদস্য নির্বাচিত, অন্যদিকে এসএসসি পাসের সুসংবাদ। আনন্দে যেন অনেকটা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি। উপস্থিত সবাই তাঁকে অভিনন্দন জানান।

এদিকে রফিকুল ইসলাম যখন আছিম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন, তখন তাঁর ছেলে একই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। বাড়ি থেকে বাবা-ছেলে একসঙ্গে বিদ্যালয়ে গিয়ে ক্লাস করতেন। গ্রামের অনেকে তা দেখে টিটকারি করত। কিন্তু তাতে রফিকুল থেমে থাকেননি। এবার পাসের খবর শুনে তাঁর কর্মী-সমর্থকসহ গ্রামের মানুষও আনন্দিত।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় ৪৫ বছর আগে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র থাকাবস্থায় অসুস্থ হয়ে যাওয়ায় লেখাপড়া করতে পারিনি। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে যাই। স্বপ্ন ছিল, বেঁচে থাকলে একদিন এসএসসি পাস করব। আল্লাহ আমার সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। ’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল ছিদ্দিক বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে শিক্ষার কোনো বয়স নেই। প্রতিবন্ধী হয়ে যে বয়সে তিনি এসএসসি পাশ করেছেন, এটা আনন্দের সংবাদ। শপথ অনুষ্ঠানে এসএসসি পাসের খবর তাঁর জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ’



সাতদিনের সেরা