kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

পুলিশের তালিকায় নিখোঁজ ৪০ জন

আজ স্বজনদের ডিএনএ সংগ্রহ করা হবে

কে এম সবুজ, ঝালকাঠি   

২৭ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে আগুন লাগার তিন দিন পার হওয়ার পরও এখনো নিখোঁজ রয়েছে অনেকে। জেলার পুলিশ সুগন্ধা নদীর তীরে লঞ্চঘাট এলাকায় একটি কন্ট্রোলরুম খুলে স্বজনদের কাছ থেকে নিখোঁজদের নাম লেখাচ্ছে। পুলিশ ৪০ জনের তালিকা করেছে, যাদের মধ্যে আছে পুরুষ আট, নারী ১৬ ও শিশু ১৫ জন। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বিজ্ঞাপন

ঝালকাঠির যুব রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পক্ষ থেকে আগের দিন যে তালিকা করা হয়, তাতে নাম রয়েছে ৫১ জনের। তবে পুলিশের করা তালিকাকে প্রাধান্য দিচ্ছে স্বজনহারা মানুষ।

এদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে কোনো মৃতদেহ গতকালও পাওয়া যায়নি। ট্রলার নিয়ে নদীতে লাশ খুঁজছে স্বজনরাও।

নিখোঁজ পুরুষরা হলেন—বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বড় লবণগোলা গ্রামের মো. হাকিম শরীফ (৪০), বরগুনার বেতাগী উপজেলার ছোট মোকামিয়া গ্রামের আরিফুর রহমান (৪০), বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া গ্রামের আরিফুর রহমান (৩৫), বরগুনার সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামের মো. মঈন সরদার (৩০), নরসিংদী জেলার রায়পুর উপজেলার হায়পাড়া গ্রামের মো. আব্দুল হক (৩০), বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া গ্রামের আরিফ মৃধা (৩২), বরগুনা সদরের মো. আরিফ (৩২) এবং বরগুনার বামনা উপজেলার গোলাকাটা গ্রামের আব্দুল হামিদ খান (৭০)।

নিখোঁজ নারীরা হলেন—বরগুনা সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া গ্রামের মোসাম্মত তাসলিমা (৩২), একই এলাকার সুমাইয়া আক্তার মীম (১৪), সুমনা আক্তার তামিমা (১২), বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বড় লবণগোলা গ্রামের পাখি (৩২), বরগুনার বেতাগী উপজেলার বুড়ামজুমদার এলাকার রিনা বেগম (৩২), বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার ছোট টেতরা গ্রামের পপি আক্তার ফজিলা (৩৫), পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার দেউলি গ্রামের নুসরাত বেগম লিমা (১২), বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগী গ্রামের রেখা বেগম (৪০), বরগুনার বেতাগী উপজেলার গরিয়াবুনিয়া গ্রামের জাহানারা বেগম (৩৫), বরগুনার সদর উপজেলার পরীরখাল গ্রামের রাজিয়া সুলতানা (৩৬), ঢাকার সবুজবাগের উত্তর মাদারটেক এলাকার মনোয়ারা বেগম (৬০), একই এলাকার রুনা আক্তার (২২), শারমিন আক্তার (২৩), বরগুনা সদর উপজেলার কুমারখালী গ্রামের রিমু আক্তার (২১), একই উপজেলার কিসমত শ্রীনগর গ্রামের জাহানারা বেমগ (৪২), বরগুনা সদরের কুমারখালী গ্রামের রিমু আক্তার (১৭)।

নিখোঁজ শিশুরা হলো—ঢাকার ডেমরা থানার পূর্ব বক্সনগর এলাকার মো. জানায়েদ ইসলাম বায়জিদ (৭), বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগী এলাকার জুনায়েদ (৭), বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বড় লবণগোলা গ্রামের নাসিরুল্লাহ (২), ঢাকার সবুজবাগ থানার উত্তর মাদারটেক এলাকার অহনা (৬), একই এলাকার জীবন (১২), ইমন (৮), আব্দুল্লাহ (৪), আছিয়া (২), বরগুনা সদর উপজেলার পরীরখাল এলাকার নুসরত (৯), বরগুনার বেতাগী উপজেলার ছোট মোকামিয়া গ্রামের কুসুম আক্তার (৭), বরগুনা সদরের কুমারখালী এলাকার মোদাচ্ছিন (১১), চাঁদপুর সদর উপজেলার পাইকান্দা গ্রামের মাহিন (১২), বরগুনা সদর উপজেলার কুলসুম (৪), বরগুনা সদরের ধলুয়া গ্রামের মোদাচ্ছের (১১) ও বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া গ্রামের কুলসুম (৪)।

ঝালকাঠি সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গৌতম কুমার ঘোষ বলেন, ‘নিখোঁজদের স্বজনের কথা শুনে আমরা এ তালিকা করেছি। এটিই চূড়ান্ত তালিকা নয়, আমরা কালকেও অপেক্ষা করব। স্বজনের খোঁজে কেউ এলে আমাদের কাছে নাম, পরিচয়, ঠিকানাসহ দিলে তালিকাভুক্ত করা হবে। ’

এদিকে বরগুনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ৩১ জন নিখোঁজের একটি তালিকা করা হয়েছে। এ তালিকায় ১৫টি শিশু, ৯ জন নারী ও সাতজন পুরুষ রয়েছেন। এ তালিকায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা ঝালকাঠি জেলা পুলিশের তালিকায়ও আছেন।

উদ্ধার অভিযান নিয়ে ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মো. কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ঘটনার পর থেকে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত হবে অভিযান কবে শেষ হবে। এখনো নদী থেকে কোনো ব্যক্তির লাশ পাওয়া যায়নি।

বরগুনার বেতাগী উপজেলার ছোট মোকামিয়া গ্রামের আরিফুর রহমান (৪০) তাঁর ছোট মেয়ে কুলসুম আক্তারকে (৭) নিয়ে বৃহস্পতিবার ঢাকার সদরঘাট থেকে ওঠেন লঞ্চটিতে। গতকাল সকালে আরিফুর রহমানের বোন আয়শা রহমান ভাই ও ভাইয়ের মেয়ের খোঁজে আসেন লঞ্চঘাট এলাকায়। পোড়া লঞ্চের মধ্যে তন্ন তন্ন করে খোঁজেন তাদের। ছোটাছুটি করেন নদীতীরের বিভিন্ন এলাকায়। পরে ট্রলার নিয়ে নদীতেও খুঁজেছেন। কোথাও না পেয়ে আসেন পুলিশের কন্ট্রোলরুমে। সেখানে তিনি ভাই ও ভাইয়ের মেয়ের নাম লেখান।



সাতদিনের সেরা