kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

সুধীসমাজের মত প্রকাশে বাধা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুধীসমাজের মত প্রকাশে বাধা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সুধীসমাজের মত প্রকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। গতকাল বুধবার মুজিববর্ষ ও বাংলাদেশের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সিপিডি আয়োজিত সম্মেলনের তৃতীয় দিনের অধিবেশনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গতকাল সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে ছিল ‘বাংলাদেশের সিভিল সোসাইটির উত্থান এবং চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা। এতে দেবপ্রিয় বলেন, বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে গড়ে ওঠা সমাজই সুধীসমাজ।

বিজ্ঞাপন

সমাজব্যবস্থায় সুধীসমাজের ভূমিকা অনেক। উদাহরণস্বরূপ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন সুধীসমাজের মাধ্যমে হয়েছিল। পরে যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠন ও শিক্ষা আন্দোলন, এমনকি আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামে সুধীসমাজের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে বৃহৎ সুধীসমাজ গড়ে ওঠে। তবে বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর কিছু মানুষ থেমে যায়। এরশাদের পতনেও ভূমিকা ছিল এই সুধীসমাজের।

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সুধীসমাজের ভূমিকা উল্লেখ করতে গিয়ে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো বলেন, ২০০০ সালেও সুধীসমাজ নানামুখী পদক্ষেপ নিত। গণতন্ত্রের জন্য কথা বলত। কিন্তু এখন তা খুব কম দেখা যায়। বাংলাদেশে নতুন গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু ১৯৯০ সাল থেকে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর এই নতুন গণতন্ত্র থেকে সুধীসমাজ বিচ্ছিন্ন হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা বর্তমানে হাইব্রিড গণতন্ত্র নিয়ে বাস করছি। ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে পর্যন্ত রাজনৈতিক দলগুলো সুধীসমাজের মতামত শুনত। ’

সম্মেলনে সোশ্যাল ট্রানজিশন (সামাজিক পালাবদল) শীর্ষক আজকের অধিবেশন সঞ্চালনা করেন ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটের বিকাশ অর্থনীতি ও পরিবেশের অধ্যাপক বিনা আগরওয়াল। তিনি শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, ‘আমি প্রথমে বাংলাদেশের ৫০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানাই। ’

‘বিতর্কিত ক্ষমতায়ন : নারী উন্নয়ন ও পরিবর্তন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব সাকসেসের গবেষণা ফেলো ড. সোহেলা নাজনীন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতিতে নারীর অনেক অবদান রয়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন বেড়েছে; কিন্তু তা অসম গতিতে। এই অসম গতির জন্য তিনি নীতিনির্ধারণের অভাবকেই দায়ী করেছেন।

ড. সোহেলা বলেন, এখনো বাংলাদেশে বাল্যবিবাহের হার অনেক বেশি। আর করোনার কারণে তা নতুন করে বৃদ্ধি পেয়েছে। লৈঙ্গিক বৈষম্য বেড়েছে। নারীদের স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তবে একটি ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে, তা হলো তৈরি পোশাক শিল্প খাত।

একই বিষয়ে আরেকটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে গিয়ে জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন বিভাগের সাবেক পরিচালক ড. সেলিম জাহান বলেন, ‘৫০ বছরে আমাদের উন্নয়ন হয়েছে অনেক। আমরা এখন আর তলাবিহীন ঝুড়ি নই। ৩৫ বিলিয়নের অর্থনীতি এখন ৩৩০ বিলিয়নে পৌঁছে গেছে। আমরা দেশের উন্নয়নের জন্য গর্ব করি। তবে এই উন্নয়নে নারীর অবদান খুবই কম। ’



সাতদিনের সেরা