kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ মাঘ ১৪২৮। ১৮ জানুয়ারি ২০২২। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

পাঁচ ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটার

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাঁচ ঘণ্টায় পাঁচ কিলোমিটার

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে গতকাল তীব্র যানজট ছিল। ছবি : কালের কণ্ঠ

চার লেনের গাড়ি এক লেনে এবং সেতুতে ট্রাক আটকে গতকাল বুধবারও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ছিল তীব্র যানজট। বেলা বাড়ার পর টঙ্গীর যানজটের ঢেউ আছড়ে পড়ে যানজট দীর্ঘ হয় রাজধানীর উত্তরার বিশ্বরোড পর্যন্ত। গত দুই দিন ধরে এই মহাসড়কে চলাচলকারী মানুষকে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। পাঁচ কিলোমিটার পথ যেতে হয়েছে কমপক্ষে পাঁচ ঘণ্টায়।

জানা গেছে, গতকাল বুধবার ভোরে অতিরিক্ত মালবোঝাই একটি ট্রাক ঢাকা যাওয়ার পথে টঙ্গী পুরনো সেতুতে ওঠার মুখে আটকে পড়ে। ট্রাকের চাকা দেবে গিয়ে এ অঘটন ঘটে। এর পর থেকে ঢাকামুখী সড়কে প্রথমে যানজট দেখা দেয়। পরে টঙ্গীর চেরাগআলী এলাকার ডেসকো অফিসের সামনের ভাঙা সড়কে চার লেনের গাড়ি এক লেনে চলতে গিয়ে গাজীপুরমুখী সড়কেও যানজট দেখা দেয়।

এতে সকাল থেকেই টঙ্গীর গাজীপুরা থেকে টঙ্গী ব্রিজ পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার, ভোগড়া বাইপাস থেকে তারগাছ পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার যানজট তৈরি হয় এবং পরে তা রাজধানীর খিলক্ষেত পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। পাঁচ কিলোমিটার পথ পেরোতেই সময় লেগেছে চার ঘণ্টার বেশি। বাধ্য হয়ে যাত্রীদের অনেকে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দেয়। সড়কে কাদাপানি থাকার কারণে হেঁটে যেতেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকায় কর্ত্যব্যরত ট্রাফিক পুলিশের এক সদস্য নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, বিআরটি (বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট) প্রকল্পের কাজ চলছে ধীরগতিতে। এ কাজ করতে গিয়ে সড়কের বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ ও গর্ত। কোথাও কোথাও সড়ক কেটে ফেলায় যান চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে গেছে। এর মধ্যে টানা তিন দিনের বৃষ্টিতে গর্তগুলোতে পানি জমে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। তাই টঙ্গীতে তীব্র যানজট রয়েছে। এ যানজটের প্রভাব ঢাকার উত্তরায়ও পড়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সড়কের সংস্কার না হলে যানজট কমার সম্ভাবনা কম। বিআরটি কর্তৃপক্ষকে সড়কের ভাঙা অংশ ও খানাখন্দ সংস্কারের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। নির্মাণকাজের কারণে গাজীপুরের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ভেঙে পড়েছে।

বিআরটির প্রকল্প পরিচালক (সেতু বিভাগ) মহিরুল ইসলাম খান বলেন, খানাখন্দের কারণে টঙ্গী অংশের বিভিন্ন জায়গায় জরুরি ভিত্তিতে সাময়িক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হচ্ছে। বৃষ্টি হলে খানাখন্দগুলো বড় হয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়। এ জন্য বৃষ্টির সময় মেরামতকাজ করা যায় না। গতকাল বুধবার দুপুর থেকে মেরামতকাজ শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার থেকে আর দুর্ভোগ থাকবে না।



সাতদিনের সেরা