kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

করোনা রোগীদের নিয়ে গবেষণা

রক্তে শ্বেতকণিকা বেশি হলে বাড়ে মৃত্যুঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর শ্বেতকণিকা ২৬ হাজার ১১০.৬ শতাংশের বেশি হলেই মৃত্যুর আশঙ্কা বেড়ে যায়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন করোনায় আক্রান্ত রোগীদের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। করোনায় মৃত্যুঝুঁকির সম্ভাব্যতা যাচাই নিয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এই গবেষণা চালায়।

চলতি বছরের মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পরিচালিত গবেষণায় যুক্ত ছিলেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের একদল গবেষক।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারির উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশ, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. ইসমাইল খান গবেষণায় নেতৃত্ব দেন।

গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এনিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সম্মেলনকক্ষে এই গবেষণার বিষয়ে সাংবাদিকদের জানানো হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, চট্টগ্রামে বিভিন্ন হাসপাতালের আইসিইউতে থাকা ১৫৬ রোগীর মধ্যে ৬৬ শতাংশ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৭৩ শতাংশের বয়স পঞ্চাশোর্ধ্ব। এ ছাড়া আইসিইউতে মারা যাওয়া ৮৯.১ শতাংশ রোগী বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছিলেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ৭৫.৫ শতাংশ রোগীর রক্তে শ্বেতকণিকার মাত্রা ২৬ হাজার ১১০.৬ ঘনমিলিমিটারের বেশি হয়ে গেছে। মৃত্যু হওয়া ৫১.৪ শতাংশ রোগীর রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে কম, যার গড় ছিল ১০.৬ গ্রাম। আবার ৭২ শতাংশের রক্তে অক্সিজেনের চাপ কম থাকায় মারা গেছে।

গবেষণায় আরো উঠে এসেছে, রক্তের অন্যান্য উপাদানের মধ্যে ৯৮.৪ শতাংশ রোগীর রক্তে সি-রিঅ্যাক্টিভ প্রোটিনের পরিমাণ ছিল ১০২.৪ মিলিগ্রাম। অথচ রক্তে এর স্বাভাবিক মাত্রা ৫ মিলিগ্রাম। এ ছাড়া ৭৫ শতাংশ রোগীর রক্তে ফেরিটিনের পরিমাণ পাওয়া গেছে ৯০১.৫ ন্যানোগ্রাম, যা স্বাভাবিকের চেয়ে অতি উচ্চমাত্রায় রয়েছে। আবার ৬৫.২ শতাংশ রোগীর রক্তে ডি-ডাইমারের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ছিল, যার মাত্রা ২.০২ মাইক্রোগ্রাম। ৭৬.১ শতাংশ রোগীর রক্তে ট্রাইপোনিনের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি রয়েছে, যা মাত্র ০.৮১ ন্যানোগ্রাম।

গবেষকরা বলছেন, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন করোনায় আক্রান্ত রোগীদের রক্তের বিভিন্ন উপাদানের প্রতি খেয়াল রাখা গেলে মৃত্যুঝুঁকি কমে আসবে। গবেষণাকাজে আরো যুক্ত ছিলেন চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপপরিচালক বিদ্যুৎ বড়ুয়া প্রমুখ।



সাতদিনের সেরা