kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

পিরোজপুরে মেম্বারের পা ভেঙে দিল প্রতিপক্ষ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পিরোজপুরে মেম্বারের পা ভেঙে দিল প্রতিপক্ষ

পিরোজপুরের শিকদারমল্লিক ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্য (ইউপি মেম্বার) ও আওয়ামী লীগ নেতাকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মেম্বারের অভিযোগ, ১১ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় প্রতিপক্ষ তাঁর ওপর এ হামলা চালায়। শরীয়তপুরে ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ককটেল ও দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আহত হয়েছেন ৪২ জন।

এ ছাড়া সহিংসতায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পাঁচজন ও ঝিনাইদহের শৈলকুপার সারুটিয়ায় চারজন আহত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পুড়িয়ে ও ভেঙে দেওয়া হয়েছে ছয়টি মোটরসাইকেল।

পিরোজপুরে কদমতলা ইউনিয়নের ঝনঝনিয়াতলা এলাকায় গতকাল দুপুরে ১২টার দিকে হামলার ঘটনাটি ঘটে। আহত রুহুল আমিন শেখ (৪৫) শিকদারমল্লিক ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রুহুল আমিন জানান, ১১ নভেম্বর শিকদারমল্লিক ইউপি নির্বাচনে তিনি ৯ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। এ কারণে গতকাল দুপুরে শিকদারমল্লিকের চালিতাখালী গ্রামে নিজের বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে পিরোজপুর সদর উপজেলায় আসার পথে ঝনঝনিয়াতলায় স্থানীয় সন্ত্রাসী ফারুখসহ ২০-২৫ জন এসে তাঁর মোটরসাইকেলটি থামায়। তারা তাঁকে জোর করে ধরে দূরে নিয়ে লোহার জিআই পাইপ ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে তাঁর দুই পা ভেঙে দেয়। ডাক-চিৎকারে সন্ত্রাসীরা তাঁকে হত্যার হুমকি দেয় ও তাঁর সঙ্গে থাকা প্রায় দুই লাখ টাকা ও কিছু মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালের চিকিৎসক তন্ময় মজুমদার জানান, রুহুল আমিন শেখের দুই পা শক্ত কিছুর আঘাতে ভেঙে গেছে। এ ছাড়া তাঁর শরীরে আঘাত থাকায় তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সদর থানার ওসি আ. জা. মো. মাসুদুজ্জামান জানান, ঘটনায় জড়িতদের আটকের চেষ্টা করছে পুলিশ।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের গাজার বাজারে ইউপি চেয়ারম্যান জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুস সালাম হাওলাদারের সমর্থকদের সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাস্টার হারুন-অর-রশিদ হাওলাদারের সমর্থকদের গতকাল সকাল ৭টার দিকে সংঘর্ষ বাধে। দেড় ঘণ্টার সংঘর্ষে ৪০-৫০টি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি ও ঢাকা মেডিক্যালে পাঠানো হয়েছে।

সদরের পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চিতলিয়ায় ইউপি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল গত ১১ নভেম্বর। ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন হারুন-অর-রশিদ হাওলাদার। বর্তমান চেয়ারম্যান ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী আব্দুস সালাম হাওলাদার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। তখন হারুন-অর-রশিদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে ৯টি ওয়ার্ড ও তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য পদের ৪৮ প্রার্থীর স্বাক্ষর জাল করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চিতলিয়া ইউপির নির্বাচন বাতিল করে দেয় নির্বাচন কমিশন। এরপর হারুন ও সালামের বিরোধ আরো বাড়ে।

মঙ্গলবার দুপুরে আব্দুস সালামের সমর্থক মজুমদার কান্দি গ্রামের লিটন ব্যাপারীকে কুপিয়ে আহত করে হারুন-অর-রশিদের সমর্থকরা। গতকাল সকালে আব্দুস সালামের চাচাতো ভাই মানিক হাওলাদার গাজার বাজারে গেলে তাঁর ওপর হামলা করে হারুন-অর-রশিদের সমর্থকরা। তখন দুই পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়ায়।

মাস্টার হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘আমার ২৫ সমর্থক আহত হয়েছে। হামলার পেছনে ইন্ধন ছিল সালাম ও মানিকের। ’ আব্দুস সালাম হাওলাদার বলেন, ‘আমার সমর্থকদের কুপিয়ে আহত করেছে তারা (হারুন-অর-রশিদের সমর্থক)। ’ পালং মডেল থানার ওসি মো. আক্তার হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে পুলিশ।

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পৃথক তিনটি সহিংসতায় পাঁচজন আহত হন। ভাঙচুর করা হয় তিনটি মোটরসাইকেল। গতকাল দুপুরে গোবিন্দাসী ও নিকরাইল ইউনিয়নে নৌকার ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।

প্রার্থীকে গুলি করার হুমকি

নাটোরের সিংড়ার কলম ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান মইনুল হক চুনুকে গুলি করার হুমকি দেওয়ায় দুই সন্ত্রাসীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রাতে হাজীপুরে নির্বাচনী পথসভা থেকে দুজনকে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেন চুনুর সমর্থকরা।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন প্রতিনিধিরা]



সাতদিনের সেরা