kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সেদিন যা ঘটেছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেদিন যা ঘটেছিল

ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বীকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সবাই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের তৎকালীন নেতাকর্মী। রাত ৩টার দিকে শেরেবাংলা হলের দোতলার সিঁড়ির করিডর থেকে আবরারের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় উঠে আসে নির্মম নির্যাতনের চিত্র।

বিজ্ঞাপন

৭ অক্টোবর নিহতের বাবা বরকত উল্লাহ ১৯ জনকে আসামি করে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় আট আসামি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার তদন্তে জানা গেছে, রাত ১০টা থেকে একটানা রাত ২টা পর্যন্ত আবরারকে শিবির সন্দেহে ক্রিকেট স্টাম্প, স্কিপিং দড়ি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। কিল-ঘুষি, লাথিও মারা হয়। আবরার থাকতেন বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে। একই কক্ষে থাকতেন ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান। তিনিই এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা এবং ঘটনার সূচনাকারী। হত্যার দুই দিন আগে মিজানুর বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রবিনকে বলেন, আবরার ফাহাদকে তাঁর শিবির বলে সন্দেহ হয়। এরপর ওই দিনই তাঁরা আবরারের খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তিনি নিজ বাড়ি কুষ্টিয়ায়। এরপর আসামিরা কয়েক দফা মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেন ফিরলেই আবরারকে তাঁরা ধরবেন। ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় হোসেন মোহাম্মদ তোহা ও শামসুল আরেফীন ইফতি মোশাররফসহ অন্য আসামিদের জানান, আবরার গ্রামের বাড়ি থেকে হলে ফিরেছেন। এরপর তাঁরা সবাই হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে একত্রিত হন। রাত ৮টার দিকে মেহেদী হাসান ওরফে রবিন ও ইফতি মোশাররফের নির্দেশে এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম, মুনতাসির আল জেমি, এ এস এম নাজমুস সাদাত আবুজার মিলে আবরারের কক্ষে যান। আবরার তখন ঘুমাচ্ছিলেন। তানিম তাঁকে ঘুম থেকে জাগিয়ে বলেন, ‘বড় ভাইয়েরা তোকে ডাকছে। ২০১১ নম্বর রুমে যেতে হবে। ’ আবরার কখন এবং কেন যেতে হবে জানতে চাইলে তানিম বলেন, ‘গেলেই জানতে পারবি। ’ এরপর তাঁরা আবরারের ল্যাপটপ, মোবাইল ফোনসহ তাঁকে ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাবাখখারুল, ইফতি মোশাররফ ও মুজতবা রাফিদ আবরারের মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চেক করতে থাকেন। তাঁরা শিবিরের তথ্য পাওয়া গেছে বলে আবরারকে মারধর শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাঁকে ২০০৫ নম্বর কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।



সাতদিনের সেরা