kalerkantho

বুধবার । ১২ মাঘ ১৪২৮। ২৬ জানুয়ারি ২০২২। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ঢাকায় মাসে গাড়ি চুরির ২৯ মামলা

♦ চুরিতে সক্রিয় অর্ধশতাধিক চক্র
♦ মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার চুরির সংখ্যা বেশি

মোবারক আজাদ   

৮ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



রাজধানীসহ সারা দেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কঠোর নজরদারির পরও থেমে নেই গাড়ি চুরি-ছিনতাই। অভিনব কৌশলে গাড়ি চুরি করেই যাচ্ছে চক্রের সদস্যরা। শুধু রাজধানীতেই প্রতি মাসে গড়ে ২৯টির মতো গাড়ি চুরির মামলা হচ্ছে। হয়রানির কথা ভেবে অনেক ভুক্তভোগী মামলা না করায় চুরির প্রকৃত সংখ্যা অজানাই থেকে যায়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে প্রতি মাসে গড়ে ১১টির মতো চোরাই গাড়ি উদ্ধার করছেন ঢাকা মহানগরের দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। রাজধানীর সব থানা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য মতে, রাজধানীতে গেল জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে ২৮৭টি গাড়ি চুরির মামলা হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই মোটরসাইকেল চুরির মামলা। চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত ১১৩ জনকে গ্রেপ্তারও করেছে পুলিশ। একই সময়ে রাজধানী থেকে ১০৫টি চোরাই গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩টি মোটরসাইকেল, ১৩টি প্রাইভেট কার, ১৩টি জিপ-পিকআপ, ১৪টি বেবি ট্যাক্সি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা, চারটি মাইক্রোবাস, দুটি বাস ও ছয়টি ট্রাক রয়েছে। এর আগে ২০২০ সালে গাড়ি চুরির ৩৩২টি মামলা হয়েছে। এ সময় গ্রেপ্তার হয় ১৬২ জন। উদ্ধার করা হয় ৩৯৮টি চোরাই গাড়ি। এর মধ্যে ১৮২টি মোটরসাইকেল, ৭৭টি প্রাইভেট কার, ৫৪টি জিপ পিকআপ, ২৯টি বেবি ট্যাক্সি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ২২টি ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান, ১৩টি মাইক্রোবাস, ১১টি বাস ও ১০টি টেম্পো-লেগুনা রয়েছে।

গাড়িতে কম দামি লক, জিপিএস লোকেশন ট্র্যাকার না থাকা ও চালক নিয়োগে অসতর্কতায় বেশির ভাগ গাড়ি চুরি হচ্ছে বলে জানান দায়িত্বরত গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তবে ট্র্যাকিং পদ্ধতি থাকলেও গাড়ি চুরি হচ্ছে। তবে এসব ক্ষেত্রে দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ভুক্তভোগীরা কল করার পরে পুলিশের পক্ষে গাড়ি উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে। সম্প্রতি সাভার, ময়মনসিংহ ও গাজীপুর থেকে চুরি-ছিনতাই হওয়া একাধিক গাড়ি ৯৯৯ নম্বরে কল পেয়ে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ডিএমপি সূত্রে জানা যায়, রাজধানীতে অর্ধশতাধিক গাড়িচোর ও ছিনতাইকারী চক্র সক্রিয়। প্রতিটি চক্রের পাঁচ থেকে ২০ জনের মতো সদস্য রয়েছে। পল্টন, যাত্রাবাড়ী, তেজগাঁও, মোহাম্মদপুর, বিমানবন্দর, উত্তরা, মহাখালী, টঙ্গী, গাজীপুর ও সাভার এলাকায় গাড়িচোর চক্রের সদস্যরা বেশি তৎপর। তারা কয়েকটি গাড়ি হাতবদলের মাধ্যমে বিক্রির জন্য এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যায়। তবে চুরির ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে থানায় মামলা কিংবা জিডি করেন না। এতে চুরির কিছু গাড়ি উদ্ধার করা গেলেও বেশির ভাগ গাড়ির খোঁজ মেলে না। ফলে গাড়ি চুরির প্রকৃত সংখ্যা জানাও সম্ভব হয় না।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ বিভাগের ‘সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ’ টিমের সহকারী কমিশনার মধুসূদন দাস বলেন, রাজধানীতে বেশ কয়েকটি গাড়িচোর চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের কয়েকটি গ্যারেজ মালিক সহযোগিতা করছে। এ চক্রের সদস্যরা বেশির ভাগ গাড়ি অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করে। যে গাড়ি চুরি করে, সে সরাসরি ভোক্তাকে দেয় না। গাড়িচোর ও ছিনতাই চক্রের সদস্যরা কয়েকটি ভাগে বিভক্ত হয়ে অন্তত পাঁচটি ধাপে গাড়ি ছিনতাই করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করে। পরে কয়েক হাত ঘুরে ক্রেতার কাছে যায়।

তিনি আরো বলেন, প্রায়ই বিশেষ অভিযান চালিয়ে গাড়িচোরদের গ্রেপ্তার ও গাড়ি উদ্ধার করা হয়। অনেক সময় গাড়ি উদ্ধার করে মালিকদের খুঁজে বের করে গাড়ি বুঝিয়ে দিই। তবে কম দামি লক, ট্র্যাকিং ডিভাইস না থাকা ও চালকদের অসতর্কতার কারণেই বেশির ভাগ গাড়ি চুরি হয়ে থাকে বলে জানান এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

পুলিশের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চোরচক্র আধুনিক পাঞ্চিং মেশিন ব্যবহার করে গাড়ির চেসিস নম্বর তুলে নতুন নম্বর বসিয়ে কাগজপত্র তৈরি করে পরে তা বিক্রি করছে। গাড়ি চুরির জন্য মাস্টার চাবি ব্যবহার করছে তারা। সুযোগ বুঝে নির্জন কিংবা ব্যস্ততম এলাকায় মাস্টার চাবি দিয়ে গাড়ির লক খুলে অল্প সময়ের মধ্যেই গাড়ি নিয়ে উধাও হয়ে যায়। কিছু চক্র গাড়িতে যাত্রীবেশে উঠে কৌশলে গাড়ির চালককে কিছু খাইয়ে অচেতন করে, কখনো মারধর কিংবা হত্যা করে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ছাড়া চালক নিয়োগের ব্যাপারে জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ছবি ও অভিভাবকের নাম-ঠিকানাসহ বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ রাখার কথা বলেন গোয়েন্দা পুলিশ।

গাড়ি চুরি রোধে ট্র্যাকিং ডিভাইস ব্যবহারের পরামর্শ দিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, ‘পুলিশের সব বিভাগ গাড়ি চুরি রোধে কাজ করছে। প্রায়ই রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূল হোতাসহ সদস্যদের গ্রেপ্তার করাসহ চোরাই গাড়ি উদ্ধার করা হচ্ছে। ’ এ সময় গাড়ি চুরি প্রতিরোধে চালক ও গাড়ির মালিকদের আরো বেশি সতর্ক হয়ে গাড়িতে ট্র্যাকিং ডিভাইসসহ গাড়ি রাখার স্থানে নজরদারি রাখার কথা বলেন তিনি।



সাতদিনের সেরা