kalerkantho

সোমবার ।  ১৬ মে ২০২২ । ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩  

সমিতির সদস্যদের টাকা নিয়ে উধাও কর্মকর্তারা

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি   

৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সমিতির সদস্যদের টাকা নিয়ে উধাও কর্মকর্তারা

যশোরের অভয়নগর উপজেলার রাজঘাটে ওভা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা গতকাল জমা টাকা ফেরতের দাবিতে অফিস ঘেরাও করেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

যশোরের অভয়নগরে সদস্যদের প্রায় ৫০ লাখ টাকা নিয়ে ‘ওভা ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সমিতির কর্মকর্তারা পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। টাকা ফিরে পেতে সদস্যদের পক্ষ থেকে সমিতির চার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

চার কর্মকর্তা হলেন—ওভা ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবু দাউদ, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান, কোষাধ্যক্ষ জাহানারা বেগম ও অফিস সহকারী সেলিনা আক্তার।

গতকাল রবিবার সকালে সরেজমিনে উপজেলার রাজঘাট মাইলপোস্ট এলাকায় ওভা ফাউন্ডেশনের অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় অফিস কক্ষের প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে।

বিজ্ঞাপন

ভবনের সামনে অর্ধশত নারী-পুরুষ পাস বই হাতে বিক্ষোভ করছেন।

থানায় করা অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে রাজঘাট মাইলপোস্ট এলাকায় যশোর-খুলনা মহাসড়কসংলগ্ন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় ওভা ফাউন্ডেশন নামের একটি সমিতি ডিপিএস ও মাসিক সঞ্চয় কার্যক্রম চালু করে। ভবনের মালিক আবু দাউদ সভাপতি, রাজঘাট জাফরপুর এলাকার মো. নুরুজ্জামান সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ জাহানারা বেগম ও অফিস সহকারী সেলিনা আক্তার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে সদস্য সংগ্রহ শুরু করেন। বিভিন্ন এলাকার নিম্ন আয়ের নারী-পুরুষ ডিপিএস ও সঞ্চয় বইয়ের মাধ্যমে ৫০ লাখ টাকার বেশি জমা দেন। বন্ধ থাকা ওই সমিতির বর্তমান সদস্যসংখ্যা চার শতাধিক। তাঁদের জমানো টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে গেছেন ওই চার কর্মকর্তা।

অফিসের প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভরত ৬০ বছরের বৃদ্ধা নাছিমা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘২০২০ সাল পর্যন্ত আমার এক লাখ টাকা জমা হয়েছে। মূল টাকা ফিরে পেতে এক বছর ধরে ঘোরাঘুরি করছি। বর্তমানে আমার ক্যান্সার আক্রান্ত স্বামীর চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন। আজ টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা ছিল। এসে দেখি অফিস বন্ধ। সভাপতি-সম্পাদককে খুঁজে পাচ্ছি না। ’

উপস্থিত সমিতির সাধারণ সদস্যদের মধ্যে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মিজানের পাঁচ লাখ, ঘাট শ্রমিক আব্দুর রাজ্জাক ও আসাদুলের দুই লাখ করে চার লাখ, সলেমন শেখের দেড় লাখ, চাকরিজীবী বাবুল গাজীর তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা জমা ছিল। বিক্ষুব্ধ সদস্যরা টাকা ফিরে পেতে অভয়নগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও অভয়নগর থানার ওসির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ওভা ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও ভবন মালিক আবু দাউদ মোবাইল ফোনে বলেন, ‘সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামান আমার ১০ লাখ টাকাসহ সদস্যদের টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন। সভাপতি হিসেবে দায় আমার ওপর এসে পড়েছে। তবে সদস্যদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ’

ওভা ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুজ্জামানের রাজঘাট বাজারের ভাড়া বাসায় গেলে বাড়ির মালিক জানান, কয়েক মাস আগে নুরুজ্জামান সপরিবারে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। পরে নুরুজ্জামানের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

অভয়নগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন কুমার মণ্ডল বলেন, ‘এ ব্যাপারে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’



সাতদিনের সেরা