kalerkantho

সোমবার ।  ১৬ মে ২০২২ । ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩  

দাওয়াই

কম ওজন নিয়ে নবজাতক জন্মালে

বাংলাদেশে প্রায় প্রতি মিনিটে চারজন নবজাতকের একজন স্বল্প বা কম ওজন নিয়ে জন্মায়। এসব নবজাতকের চিকিৎসা ও সঠিক পরিচর্যা না করলে পরে অনেক জটিলতা দেখা দেয়। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী

৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কম ওজন নিয়ে নবজাতক জন্মালে

কম বা স্বল্প ওজন নিয়ে জন্মানো নবজাতকের শরীরের তাপমাত্রা ঠিক থাকে না, খাবারে অসুবিধা হয়, ইনফেকশনের প্রবণতা থাকে, শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা হতে পারে, পুষ্টির অভাবসহ মস্তিষ্কের বিকাশঘটিত কিছু জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ জন্য কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। যেমন—

 

ইনকিউবেটর

সাধারণত নবজাতকের ওজন দুই হাজার গ্রামের কম হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ইনকিউবেটরে রাখতে হয়। সেখানে তাপমাত্রা সঠিক পর্যায়ে (৪০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে আর্দ্রতা বজায় রেখে) প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়।

বিজ্ঞাপন

 

বিকল্প উপায়

যেসব জায়গায় ইনকিউবেটরের ব্যবস্থা নেই, সে ক্ষেত্রে তাপমাত্রা বজায় রাখার বিকল্প পদক্ষেপ হিসেবে রেডিয়েন্ট হিটার, ল্যাম্প জ্বালিয়ে ঘর গরম রাখা যেতে পারে। তবে তুষের আগুন জ্বালিয়ে তা করা যাবে না। বদ্ধ ঘরে তুষের ধোঁয়া নবজাতকের জন্য ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। ঘর যেন বিশুদ্ধ বাতাস চলাচলের উপযোগী হয়। মাথায় টুপি পরিয়ে, হাত-পায়ের মোজা ব্যবহার করে, কম্বল বা তুলার বান্ডেলে ঢেকে, শরীর থেকে নিরাপদ দূরত্বে গরম পানির ব্যাগ রেখেও কাঙ্ক্ষিত তাপমাত্রা বজায় রাখা যায়।

ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার

ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার (কেএমসি) হচ্ছে অপরিণত অবস্থায় জন্মগ্রহণ করা নবজাতকের জীবন রক্ষায় প্রায় বিনা মূল্যে পাওয়া একটি সফল চিকিৎসাসেবা, যাতে মৃত্যুহারও কমে এসেছে। প্রাণীদের মধ্যে ক্যাঙ্গারু যেভাবে জন্ম নেওয়া অপরিণত বাচ্চাকে তার বুকের থলের ভেতরে আগলে রেখে মাতৃদেহের ওমে বড় করে তোলে, সেই কৌশলকে অনুসরণ করে সময়ের আগে জন্ম নেওয়া ও কম ওজনের নবজাতককে ক্যাঙ্গারু পদ্ধতিতে বুকের ওপর চামড়ার সঙ্গে মিশিয়ে রেখে সুস্থ করে তুলতে পারেন প্রসূতি মা। মায়ের দুই স্তনের মধ্যে ত্বকের সঙ্গে শিশুটির ত্বকের সংস্পর্শ ঘটাতে হয়।

 

সতর্কতা ও করণীয়

♦ ইনফেকশন এড়াতে এ সময় নবজাতকের মা ছাড়া অন্য কারো সংস্পর্শ থেকে দূরে রাখুন। অর্থাৎ অন্য কারোর কোলে দেবেন না।

♦ শিশুকে ধরাছোঁয়ার আগে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিন।

♦ উভয়ের ব্যবহার্য কাপড়চোপড় ও ঘর পরিচ্ছন্ন রাখুন।

♦ প্রিম্যাচিওর শিশুর জন্য ভিটামিন-ডি, ভিটামিন-সি জাতীয় বাড়তি ভিটামিনের প্রয়োজন দেখা দেয়। চিকিৎসকের পরামর্শে কখনো ওজন দ্বিগুণ হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হয়। এ সময় আয়রন সিরাপও খাওয়াতে হয়।



সাতদিনের সেরা