kalerkantho

বুধবার । ১২ মাঘ ১৪২৮। ২৬ জানুয়ারি ২০২২। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

শান্তি সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

জবাবদিহিমূলক বিশ্বব্যবস্থার বিকল্প নেই

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৬ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অস্ত্র প্রতিযোগিতার পরিবর্তে সর্বজনীন টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সবাইকে তাদের সম্পদ ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়ে অংশীদারির ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেন, শান্তির জন্য জবাবদিহিমূলক বিশ্বব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘বিশ্বের এই চরম সংকটময় সময়ে আমি অস্ত্র প্রতিযোগিতায় সম্পদ ব্যয় না করে তা সর্বজনীন টেকসই উন্নয়ন অর্জনে ব্যবহার করার আহ্বান জানাই। আসুন, আমরা সর্বজনীন শান্তির জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে কর্মযজ্ঞে নেমে পড়ি।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব শান্তি সম্মেলনের সমাপনী ভাষণে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এ সম্মেলনে যোগ দেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে দুই দিনব্যাপী শান্তি সম্মেলন শুরু হয়।

শান্তির জন্য জবাবদিহিমূলক বিশ্বব্যবস্থা গড়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে এই পৃথিবীতে বসবাস করতে হলে অংশীদারির ভিত্তিতে একটি জবাবদিহিমূলক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর  রহমানের শান্তির আদর্শকে পুরোপুরি ধারণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সমঝোতার ভিত্তিতে সবার সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ সব সময় প্রস্তুত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুই বছর ধরে করোনাভাইরাস মহামারি পুরো বিশ্বব্যবস্থাকে এক নতুন সংকটের মুখোমুখি করেছে। এই সংকট প্রমাণ করেছে আমরা কেউই আলাদা নই। ’

শেখ হাসিনা দেশে-বিদেশে শান্তি ও ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা এবং তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আমরা ১১ লাখের বেশি মিয়ানমারের রোহিঙ্গাকে সাময়িক আশ্রয় দিয়েছি। ফলে এই অঞ্চলে একটি বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। রোহিঙ্গাদের তাদের নিজ মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসনের জন্য আমরা শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছি। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাধীনতার জন্য আমরা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছি। বরাবরের মতো ফিলিস্তিনের জনগণের ন্যায্য দাবির পক্ষে আমাদের অবিচল সমর্থন রয়েছে। ’

বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে রোল মডেল। আমরা ‘এসডিজি প্রগ্রেস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছি। আমরা বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, তথ্য-প্রযুক্তি ও কৃষিক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছি। দেশের অর্থনীতিকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করেছি। করোনা মহামারির প্রতিঘাত নিরসনে এক লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছি। আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। ”



সাতদিনের সেরা