kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার

সরকারি জমিতে মেয়রের মার্কেট

উপজেলার চৌরাস্তা পায়রা চত্বর এলাকার পূর্ব পাশে রেলওয়ের জমি রয়েছে। সেখান থেকে প্রায় চার শতাংশ জমি দখলে নিয়ে বালু ভরাট করে সম্প্রতি মার্কেট নির্মাণ করেছেন মেয়র সুন্দর আলী

আড়াইহাজার (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে রেলওয়ে অধিদপ্তরের জায়গা দখল করে সেখানে মার্কেট নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় পৌরসভার মেয়রের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, জায়গাটি এক ব্যক্তি লিজ নিয়ে ভোগদখল করে আসছিলেন।

এলাকাবাসী জানায়, আড়াইহাজার পৌরসভার মেয়র সুন্দর আলী জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। উপজেলার চৌরাস্তা পায়রা চত্বর এলাকার পূর্বপাশে রেলওয়ের জমি রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সেখান থেকে প্রায় চার শতাংশ জমি দখলে নিয়ে বালু ভরাট করে সম্প্রতি মার্কেট নির্মাণ করেছেন সুন্দর আলী। মার্কেটে সাতটি দোকান রয়েছে। দোকানগুলো তিনি ভাড়াও দিয়েছেন।

হাবিবুর রহমান নামে আড়াইহাজার সদরের এক বাসিন্দা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি জায়গাটি রেলওয়ে থেকে লিজ নিয়ে ভোগদখল করে আসছি। সম্প্রতি মেয়র সুন্দর আলী আমার লিজকৃত জায়গাটি জোরপূর্বক দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে ফেলেছেন। আদালত তাঁকে অবৈধ দখলদার হিসেবে চি?িহ্নত করে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার এবং থানার ওসিকে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরও আমি ন্যায়বিচার পাচ্ছি না। ’

মার্কেটটির দোকানদার রাতুল মোটরসের মালিক শেখ মোহাম্মদ ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মেয়র সুন্দর আলী আমার কাছ থেকে সাব ডিলারশিপ নিয়েছেন। তিনি নিজেই ওই স্থানে (দোকানে) ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ’

আড়াইহাজার থানার ওসি আনিচুর রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলার যাতে অবনতি না হয় সে বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে আড়াইহাজার পৌরসভার মেয়র সুন্দর আলীকে ফোন করলে তিনি বলেন, ‘আমি জরুরি সভায় আছি। ’ এর পরই ফোনের সংযোগ কেটে দেন। পরে একাধিকবার তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি।

জানতে চাইলে রেলওয়ে ঢাকা বিভাগের সার্ভেয়ার ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের রেলওয়ের জমি ইজারা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। কোনো ব্যক্তি রেলওয়ের জায়গায় অবৈধ দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। ’

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই জানান, রেলওয়ের জমিতে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করার নীতিমালা নেই। দলীয় নাম ভাঙিয়ে কোনো ব্যক্তি সরকারি সম্পদ দখল করলে তাঁর বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ কালের কণ্ঠকে জানান, সরকারি জমিতে কেউ কোনো অবস্থাতেই ভবন নির্মাণ করতে পারে না। স্থানীয় প্রশাসনকে বিয়ষটি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



সাতদিনের সেরা