kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস আজ

দেশের সাড়ে ১০ লাখ হেক্টর জমি লবণাক্ত

ওই মাটি আবাদ উপযোগী করার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশের সাড়ে ১০ লাখ হেক্টর লবণাক্ত ঁজমিকে আবাদ উপযোগী করার চেষ্টায় নানা গবেষণা ও পরিকল্পনা চলছে। লবণাক্ত জমির উপযোগী ফসলের জাত উদ্ভাবন করা, নানা কৌশলে লবণাক্ততা কমিয়ে ফসল আবাদ করাসহ বিভিন্নভাবে এই গবেষণা এগিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্ব মৃত্তিকা দিবসে তাই এবারের প্রতিপাদ্য ‘লবণাক্ততা রোধ করি, মাটির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করি’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় আজ দিবসটি পালন করার উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয় ও মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট।

বিজ্ঞাপন

এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, বিশ্বের মোট আবাদযোগ্য জমির ৮৩৩ মিলিয়ন হেক্টর লবণযুক্ত। আর দেশের দক্ষিণাঞ্চলে মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ২৮ লাখ হেক্টর। এর মধ্যে ১০ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টরই লবণাক্ত। চাইলেই এ মাটিতে যেকোনো ফসল আবাদ করা যায় না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জলবায়ুর প্রভাবে সমুদ্রের উচ্চতা যত বাড়ছে লবণাক্ততাও তত বাড়ছে। তাই লবণাক্ততা কমিয়ে কিভাবে ফসল আবাদ বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কয়েক বছর ধরেই কাজ চলছে। এরই মধ্যে ধান, তরমুজ, ভুট্টাসহ কয়েক রকম ফসলের লবণসহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এ ছাড়া কলস সেচ, খামার পুকুর পদ্ধতি, চারা পদ্ধতিসহ কয়েক ধরনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে আবাদ বাড়ানো হয়েছে।

জানতে চাইলে মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিধান কুমার ভাণ্ডার বলেন, ‘এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণের পেছনে মূল কারণ হলো দেশের আবাদযোগ্য জমির বিশাল একটি অংশ শুধু লবণের কারণে পতিত পড়ে থাকে। সেই জমিগুলোকে আবাদে ফেরাতে আমাদের কৃষকদের সচেতন করা জরুরি। এরই মধ্যে সরকার এসব জমিকে কাজে লাগাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। উদ্যোগগুলো সবার জানা দরকার। তারা কিভাবে সেগুলো ব্যবহার করবে, তা জানা থাকলে জমিগুলো কাজে লাগাতে পারবে। ’

জানা যায়, উদ্ভিদের জন্ম-বৃদ্ধিতে ও মানবকল্যাণে মৃত্তিকার গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিতেই বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস নির্ধারণ করা হয়েছে। মৃত্তিকার সঠিক পরিচর্যার গুরুত্ব বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মৃত্তিকাবিজ্ঞানের আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন (আইইউএসএস) ২০০২ সালে বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করে। পরে এটি জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য সংস্থার (এফএও) অনুমোদন লাভের পর প্রতিবছরের ৫ ডিসেম্বর বিশ্বজুড়ে দিবসটি উদযাপিত হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, মাটিকে যথাযথ ব্যবহার না করে এর উর্বরতাশক্তি নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান নগরায়ণ, শিল্পায়ন, দূষণ, ব্যাপক হারে বনভূমি ধ্বংস এবং অপরিকল্পিত চাষাবাদের ফলেও অনেক অঞ্চলের মাটি নষ্ট হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, মাটির পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির ফলে মৃত্তিকা এখন হুমকির মুখে রয়েছে। এ কারণে বছরে ০.৪ শতাংশ ফসল উৎপাদন কমে। পাহাড়ি অঞ্চলে মাটিক্ষয়ের মাত্রা বেশি, তা প্রায় ১২ শতাংশ।



সাতদিনের সেরা