kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন

ভোটারদের আলোচনায় বিএনপির প্রার্থিতা

তৈমূর আলম খন্দকার, এ টি এম কামাল, আবুল কালাম, গিয়াসউদ্দিন—এঁদের যেকোনো একজন বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গত শুক্রবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি। এই দলের প্রার্থী কে হচ্ছেন বা তারা নির্বাচনে যাচ্ছে কি না, এ নিয়ে চলছে আলোচনা। কেউ বলছেন, বিএনপি প্রার্থী দিয়ে চমক দেখাতে পারে।

বিজ্ঞাপন

আবার অনেকে বলছেন, অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মতো এই নির্বাচনেও আসছে না তারা।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আইভীকে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ থেকে দ্বিতীয়বার দলীয় মনোনয়ন দেওয়ায় উত্ফুল্ল তাঁর সমর্থকরা। গত শুক্রবার রাতের পর গতকাল শনিবারও শহরে আনন্দ মিছিল করেছে তারা। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র আইভীকে গতকাল দলীয় কার্যালয়ে সংবর্ধনা দিয়েছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এবারও জনগণের ভোটে বিজয়ী হবেন বলে প্রত্যাশা করে দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান আইভী।

তবে অনুষ্ঠানে দলীয় মনোনয়ন চেয়ে আবেদন করা নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহাকে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে কয়েক দফা ফোন দেওয়া হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

শহর ঘুরে দেখা গেছে, চাষাঢ়ার চায়ের দোকান থেকে শহরের বোস কেবিন—সব জায়গায় নির্বাচন নিয়ে চলছে আলোচনা। আইভীর বিপক্ষে বিএনপির কে প্রার্থী হচ্ছেন—এটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। বিকেলে শহরের ঐতিহ্যবাহী বোস কেবিনেও বসা শরীফ আহমেদ নামের নগরের এক বাসিন্দা বলেন, বিএনপি এই নির্বাচনে আসবে না। কারণ, তারা এমপি থেকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান সব নির্বাচনই বর্জন করেছে।

তবে যুক্তি খণ্ডন করে সুলতান মিয়া নামের আরেকজন বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচন অন্য সব নির্বাচনের চেয়ে আলাদা। এখানে বিএনপির ভোট ব্যাংক রয়েছে। রয়েছে জামায়াত ও হেফাজতের ভোট। বিএনপি প্রার্থী দিলে সুবিধা করতে পারবে।

জব্বার হোসেন নামের আরেকজনের মত, বিএনপি নেতারা মনে মনে এই নির্বাচন নিয়ে পজিটিভ। নির্বাচনে অংশ নিতে জেলার শীর্ষ নেতারা কেন্দ্রে দৌড়ঝাঁপ করছেন। তৈমূর আলম খন্দকার, এ টি এম কামাল, আবুল কালাম, গিয়াসউদ্দিন—এঁদের যেকোনো একজন প্রার্থী হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তাঁদের কেউ প্রার্থী হলে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকার কালের কণ্ঠকে বলেন, নির্বাচনের বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে আমাদের একটাই ইস্যু, দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা। তাঁকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর ইস্যুতে আমরা রাজপথে আছি। ’

মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল বলেন, ‘আমি গতবারও দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম। দল নির্বাচনে গেলে এবারও আমি মনোনয়ন চাইব। কারণ, আমি সব সময়ই আন্দোলনে রাজপথে থেকেছি। ’

মাঠে কাউন্সিলর প্রার্থীরা

নির্বাচনে অংশ নিতে সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত ২৭টি ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা বেশ কিছুদিন আগে থেকেই প্রচার শুরু করেছেন। তাঁরা গলির মুখে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে ব্যানার-ফেস্টুন ছাপিয়ে টাঙিয়ে রেখেছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অনেক নেতাই প্রচারে অংশ নিচ্ছেন।

জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি খন্দকার মাকসুদুল আলম খোরশেদ বলেন, দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে শুধু মেয়র আর ইউপি চেয়ারম্যানের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কাউন্সিলদের ক্ষেত্রে দল থেকে এমন বিধি-নিষেধ নেই। তাই তিনি ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে চতুর্থবারের মতো কাউন্সিলর পদে জয়ী হতে জোর প্রচার চালাচ্ছেন।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, প্যানেল মেয়র ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি মতিউর রহমান মতি বলেন, ‘আমি জনগণের দিকে তাকিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। আমি এলাকার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। ’

তফসিল অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট হবে আগামী ১৬ জানুয়ারি। শতভাগ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৫ ডিসেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২০ ডিসেম্বর এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৭ ডিসেম্বর।



সাতদিনের সেরা