kalerkantho

সোমবার ।  ২৩ মে ২০২২ । ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২১ শাওয়াল ১৪৪৩  

দাওয়াই

যন্ত্রণাদায়ক গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পেতে

অম্বল বা গ্যাস্ট্রিকের যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা অনেকেরই আছে। চিকিৎসা ছাড়াও দৈনন্দিন জীবনে কিছু খাবার খেলে, কিছু খাবার ও অভ্যাস বর্জন করলে এবং কিছু নিয়ম মেনে চললে এই সমস্যা থেকে মুক্তি মেলে। এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নুরুজ্জামান

৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যন্ত্রণাদায়ক গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পেতে

বুক জ্বলা বা ভারী ভারী লাগা, ঢেকুর ওঠা, বমি বমি ভাব, খাওয়ার পর পেট ফুলে থাকা ইত্যাদি হলো গ্যাস্ট্রিকের লক্ষণ। গ্যাস্ট্রিকের জন্য আগে বিভিন্ন খাবারকে দায়ী করা হলেও এখন বলা হচ্ছে, হেলিকোব্যাকটর পাইলোরি (এইচ পাইলোরি) ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব মূলত গ্যাস্ট্রিকের জন্য দায়ী। এ ছাড়া ভাজাপোড়া ও মসলাযুক্ত খাবার, ওষুধের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, অতিরিক্ত ব্যথানাশক সেবন, ধূমপান বা মদ্যপান, দুশ্চিন্তা, অনিদ্রা ইত্যাদির কারণে সাধারণত গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়ে থাকে।

 

কিছু ঘরোয়া সমাধান

সাধারণত অ্যান্টাসিডজাতীয় বা বাজারে প্রচলিত গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ সেবন করলে এই সমস্যা থেকে উপকার পাওয়া যায়।

বিজ্ঞাপন

তবে যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে তারা ওষুধের বাইরেও ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি প্রয়োগ করলে বেশ উপকার পাবে। এ জন্য যা করতে হবে তা হলো :

♦ দিনে অন্তত দুটি কলা খাবেন। পেট পরিষ্কার রাখতে কলা বেশ ভালো কাজ করে।

♦ দুধ পান করবেন, তবে গরম দুধ নয়। ঠাণ্ডা দুধ এসিডিটি দূর করে।

♦ এক গ্লাস পানির মধ্যে আধাচামচ পরিমাণ দারচিনির গুঁড়া মিশিয়ে ফুটিয়ে নিন। এবার সেই পানি দিনে দু-তিনবার পান করুন।  

♦ এ ছাড়া খেতে পারেন জিরার পানি, আদা, আমলা, লবঙ্গ, এলাচ, পুদিনা পাতায় ফোটানো পানি ইত্যাদি।

 

যে খাবারগুলো নয়

গ্যাস্ট্রিক থাকলে কিছু খাবার কম খাওয়া বা এড়িয়ে যাওয়া ভালো। এগুলো হলো মুলা, কাঁচা কাঁঠালের সবজি বা এঁচোড়, ছোলার ডাল বা ছোলা ভাজা ইত্যাদি। এ ছাড়া অন্য কোনো খাবার সমস্যা তৈরি করলে সেগুলোও বাদ দেওয়া ভালো।

 

প্রতিরোধে করণীয়

♦ প্রক্রিয়াজাত খাবার, ঝাল, টক ফল, ভাজাপোড়া, বাসি খাবার বর্জন করুন।

♦ সকালের নাশতা একেবারে বাদ দেবেন না বা বেশি বিলম্ব করে খাবেন না।

♦ অল্প অল্প করে দিনে কয়েকবার খাবার খান।

♦ তাড়াহুড়া করে কোনো খাবার খাবেন না; বেশি খাবারও খাবেন না।

♦ মুটিয়ে যাওয়া রোধ করে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

♦ নিয়মিত কায়িক শ্রম দিন বা শরীরচর্চা করুন।

♦ প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন।

♦ মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন।

♦ দৈনিক কমপক্ষে সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমান।



সাতদিনের সেরা