kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৩০ জুন ২০২২ । ১৬ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৯ জিলকদ ১৪৪৩

সিপিডির অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা

শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে উদ্যোগের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়াতে উদ্যোগের তাগিদ

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উন্নয়নের ধারা ধরে রাখতে ও কর্মক্ষম জনশক্তির সুবিধা নিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা এই দক্ষতা বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের কথা বলছেন।

গতকাল শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দক্ষতার অভাব ও যুব কর্মসংস্থান’ শীর্ষক এক জরিপের ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা তাঁদের এই মনোভাব তুলে ধরেন। সিপিডির এই জরিপে সহায়তা করে বেসরকারি সংস্থা ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটাং।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। অন্যদের মধ্যে ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য শিরীন আখতার উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। এতে গবেষণা উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী সৈয়দ ইউসুফ সাদাত। গবেষণায় বলা হয়, বেশির ভাগ চাকরিদাতা যোগাযোগের ক্ষমতা, ব্যবস্থাপনা জ্ঞান এবং তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধানের দক্ষতা আছে এমন প্রার্থীদের চাকরি দেয়। পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কারিগরি জ্ঞান ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে চাকরির ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সম্প্রতি সদ্যঃস্নাতকদের মধ্যে করা জরিপে দেখা যায়, তাঁদের মধ্যে যথেষ্ট ইংরেজি ভাষাজ্ঞান ও যোগাযোগ দক্ষতার অভাব রয়েছে। কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে রয়েছে গাণিতিক দক্ষতারও অভাব।

গবেষণায় ইউসুফ সাদাত বলেন, ‘আমাদের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর সুফল পেতে হলে প্রথমেই তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ ও শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। তবেই আমরা সেই তরুণ জনগোষ্ঠীর সুবিধা নিতে পারব। তবে আমাদের গবেষণার তথ্য-উপাত্ত বলছে, বেশির ভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্নাতকদের মধ্যে ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, যোগাযোগ দক্ষতা ও গাণিতিক দক্ষতার অভাব রয়েছে। ১০০ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিদাতা ও অনলাইনের মাধ্যমে ৪১টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০০ শিক্ষার্থীর ওপর এই জরিপ চালানো হয়েছে। ’ সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আমরা দক্ষতার দিক দিয়ে কিছুটা পিছিয়ে আছি, এ ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এ ঘাটতি ধীরে ধীরে কাটিয়ে উঠছি। আমরা একটি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আগে আমাদের ছেলেমেয়েদের ২ শতাংশ বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করত। এখন সে সংখ্যা ১৮ থেকে ১৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ’

সংসদ সদস্য শিরীন আখতার বলেন, তরুণদের শিক্ষার পাশাপাশি দক্ষ হতে হবে। চাকরির বাজার কোন দিকে যাচ্ছে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। বাংলাদেশের উন্নয়নের অনেক খাত বেড়েছে।

দক্ষতার প্রসঙ্গে মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, বাংলা ভাষায়ও দক্ষতার অভাব রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো ইংরেজিতে দক্ষ কর্মী নিতে গিয়ে অনেক মেধাবীও হারায়। তাঁর মতে, বর্তমান প্রজন্মের স্নাতকদের মধ্যে কাজ শেখার প্রবণতা কম। তাঁদের কাজ করার, শেখার মানসিকতা থাকতে হবে।

বিডিজবস ডটকমের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘চাকরির জন্য ইংরেজিতে দক্ষতা খুব প্রয়োজনীয় নয়। কম্পানিগুলো চাকরির জীবনবৃত্তান্ত্ত বাছাইয়ের সুবিধার জন্য এই ক্যাটাগরি রাখে। বেসরকারির চেয়ে সরকারি চাকরির দিকে তরুণরা বেশি ঝুঁকছে। ’

এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘বর্তমান প্রজন্মের স্নাতকরা কারখানা অথবা উৎপাদন খাতে কাজ করতে চায় না। তারা চায় এসিতে বসে অথবা বিপণন খাতে কাজ করতে। এটা বাজে প্রবণতা। আমরা এপেক্সের পক্ষ থেকে ৫০ জন স্নাতককে নিয়োগ দিয়েছিলাম। তাদের কাছ থেকে খুব ভালো ফিডব্যাকও পেয়েছি। ’



সাতদিনের সেরা