kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

মাধবপুরে নদ দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে স্থাপনা

দখলে-দূষণে ধুঁকছে সোনাই নদ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দখলে-দূষণে ধুঁকছে সোনাই নদ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা সদরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সোনাই নদ এখন মরা খাল। ছবি : কালের কণ্ঠ

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা সদরের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সোনাই নদ অবৈধ দখল আর ময়লা-আবর্জনার কারণে প্রায় খালে পরিণত হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে নদে কিছুটা পানি থাকলেও শুকনা মৌসুমে তা বিরানভূমিতে পরিণত হয়।

সোনাই নদের স্বাভাবিক প্রস্থ প্রায় ২৫০ মিটার হলেও বর্তমানে অবৈধ দখল আর নদে ময়লা-আবর্জনা ও বর্জ্য ফেলার কারণে তা কমে অর্ধেকে গিয়ে ঠেকেছে। গভীরতা পাঁচ মিটার হলেও দীর্ঘদিন নদটি খনন না করায় দিন দিন তা হ্রাস পাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

নদ থেকে ক্রমাগতই একটি প্রভাবশালীচক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে, যার ফলে নদের গতিপথও পরিবর্তিত হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে নদের দুই কূল ছাপিয়ে বন্যার সৃষ্টি হলেও শুকনা মৌসুমে নদে পানিপ্রবাহ নেই বললেই চলে।

শুকনা মৌসুমে এলাকার কৃষিকাজের জন্য চৌমুহনী ও বহরাতে এলজিআরডির দুটি রাবার ড্যাম প্রকল্প আছে। কিন্তু ত্রিপুরার তেলিয়াপাড়া শহর ও আশপাশের পানি প্রত্যাহার করে নেয় ভারত। এতে কৃষিকাজে ক্ষতি হচ্ছে। সোনাই নদকে কেন্দ্র করে আশপাশের নাসিরনগর, লাখাই, আজমিরীগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার জনসাধারণ যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্য চালাত। নদে চলত লঞ্চ, ট্রলার, ছোট-বড় অসংখ্য নৌকা।

সোনাই নদে সবচেয়ে দৃশ্যমান দখলের চিত্র দেখা যায় উপজেলা শহরেই। সেখানে সায়হাম গ্রুপ নির্মাণ করেছে সায়হাম ফিউচার পার্ক নামে বিশাল এক অট্টালিকা। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন এই স্থাপনা নিয়ে বারবার আন্দোলন করলে নদী কমিশন একাধিকবার সেটি পরিদর্শন করে উচ্ছেদের নির্দেশ প্রদান করে জেলা প্রশাসনকে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে উচ্ছেদ হচ্ছে না এই অট্টালিকা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) হবিগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল সোহেল জানান, বারবার আন্দোলন করার পরও থেমে নেই নদদূষণ। এত দিন ব্যক্তিগতভাবে প্রভাবশালীদের শিকার হতো এই নদ। এখন বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান দূষিত করছে।

সায়হাম ফিউচার পার্ক নির্মাণকাজ বাস্তবায়নকারী বিশ্বাস বিল্ডার্সের পরিচালক ফয়েজ আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা আইন মেনেই সেখানে ইমারত নির্মাণ করেছি। ’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী এরই মধ্যে মাধবপুর উপজেলায় অবৈধভাবে দখলে রাখা সরকারি জায়গা উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সোনাই নদের ম্যাপ অনুযায়ী বড় করা হবে। নদের পারের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে নদটি যতটুকু ছিল ততটুকু ফিরিয়ে আনা হবে। এরই মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড সার্ভেয়ার নদের সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু করেছে।

সহকারী কমিশনার ভূমি মো. মহিউদ্দিন জানান, এরই মধ্যে সোনাই নদের মাধবপুর পৌর বাজারের অংশে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাকিগুলোও করা হবে।



সাতদিনের সেরা