kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

দাওয়াই

কভিড-পরবর্তী ব্যথায় করণীয়

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর বা হাসপাতাল থেকে রিলিজ নেওয়ার পর বাসায় গিয়ে যারা নানা জটিলতায় ভোগে, তাদের পোস্ট-কভিড রোগী বলা হয়। এসব রোগী অন্যান্য উপসর্গের সঙ্গে দেহের নানা অঙ্গে ব্যথা-বেদনায় ভুগে থাকে। এসব সমস্যায় কী করণীয় এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. এ কে এম সালেক

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কভিড-পরবর্তী ব্যথায় করণীয়

করোনাভাইরাসে শুধু ফুসফুস আক্রান্ত হয় তা নয়, জয়েন্ট পয়েন্টগুলোও বেশ আক্রান্ত হয়। পরবর্তী উপসর্গ হিসেবে প্রদাহ বা ব্যথা-বেদনাজনিত জটিলতাও হতে পারে। করোনায় আক্রান্ত রোগীদের দেহে পরবর্তী সময়ে নতুন অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। সেই অ্যান্টিবডি বিভিন্ন জয়েন্টে অ্যান্টিজেন চিহ্নিত করে।

বিজ্ঞাপন

তখন আর্থ্রাইটিস বাত-ব্যথা ও ঘাড় ব্যথাসহ অন্যান্য সমস্যাও তৈরি হয়।

 

উপসর্গ

অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, ফুলে যাওয়া, চলাচলের ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, দাঁড়িয়ে কাজ করতে অসুবিধা হওয়া, সিঁড়ি ভাঙতে না পারা, কবজিতে ব্যথা অনুভূত হওয়া, নার্ভের ব্যথা হওয়া ইত্যাদিসহ কারপেল টানেল সিনড্রোম, টেনিস এলবো, ফ্রোজেন শোল্ডার ইত্যাদি রোগ কভিড-পরবর্তী সময়ে দেখা দিতে পারে। আবার বাসায় গিয়ে দীর্ঘ বিশ্রামে থাকার কারণে বা অলস জীবন যাপনের কারণে, শারীরিক কসরত না করার কারণে অনেকের ওজন বৃদ্ধি পেলেও জয়েন্টের ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। এতে কার্ডিওপালমোনারি ক্ষমতা হ্রাস পায়; অনেকে হৃদরোগ, ফুসফুসের নানা জটিলতায় ভোগে।

 

চিকিৎসা

পোস্ট-কভিড রোগীরা উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেবে। তবে যারা বাত-ব্যথা এবং হাড়ের ব্যথায় ভুগছে, তারা রিউমাটোলজিস্ট, ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়েই চিকিৎসা নেয়। চিকিৎসক অ্যান্টিবডি ও ব্যথার ধরন নির্ণয় করে ব্যথা কমানোর জন্য প্রাথমিকভাবে ওষুধ দেবেন। ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন হলে সেটা তিনিই বলবেন। তবে হাতুড়ে ডাক্তারের কাছে যাবেন না। পত্রপত্রিকা বা টিভির অনুষ্ঠান বা বিজ্ঞাপন দেখে কোনো অপচিকিৎসা করাবেন না।

 

করণীয়

♦ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর যাঁদের হৃদরোগের কোনো সমস্যা নেই, তাঁরা নিয়মিত স্বাভাবিক চলাফেরা করুন।

♦ নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খান; তবে ওজন বেড়ে যেতে পারে এমন খাবার পরিত্যাগ করুন।

♦ স্বাভাবিক হাঁটাচলা করবেন, তবে দৌড়ানো বা ভারী ব্যায়াম করবেন না।

♦ ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য এসংক্রান্ত ব্যায়ামগুলো করবেন। ইউটিউবেও আজকাল ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর নানা ধরনের ব্যায়ামের ভিডিও পাওয়া যায়।

♦ চিকিৎসকের দেওয়া ব্যায়ামগুলো শিখে নিয়ে বাসায়ও চর্চা করতে পারেন।



সাতদিনের সেরা