kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

প্রতিবন্ধিতা দমাতে পারেনি মোর্শেদকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রতিবন্ধিতা দমাতে পারেনি মোর্শেদকে

শিক্ষার্থী পড়াচ্ছেন মোর্শেদ মিয়া। ছবি : কালের কণ্ঠ

জন্ম থেকেই দুই পা নেই; কিন্তু থেমে নেই ২২ বছরের যুবক মোর্শেদ মিয়ার পথচলা। নিজের চেষ্টায়ই এখন পরিবারের ভরসাস্থল মোর্শেদ—একই সঙ্গে চালাচ্ছেন গরুর একটি খামার। এর পাশাপাশি অবসরে এলাকার ছেলেমেয়েদেরও পড়ান মোর্শেদ।

কথা হচ্ছিল নরসিংদীর মাধবদী এসপি ইনস্টিটিউটের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোর্শেদের সঙ্গে।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, তাঁর প্রতিবন্ধকতা জয় করতে তাঁকে সহযোগিতা করেছে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের ‘ব্র্যাক স্কুল’। মোর্শেদ এখন তাঁর গ্রামের রোল মডেল ও সফল খামারি। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার জীবন খুবই বৈচিত্র্যময়। আমাদের বাড়ি ছিল জলাভূমির মাঝখানে। আমি জানতাম না যে জলাভূমির ওই পাশে কী আছে, আমার খুব দেখতে ইচ্ছা হতো। কিন্তু আমি তো চলতে পারতাম না আর ছোট ছিলাম, তাই ছয় বছর পর্যন্ত আমি ঘরেই থাকতাম। আর এলাকাবাসী আমার মাকে নানা কথা বলত, তাই মাও আর বাইরে যেতে দিত না। ’

তিনি আরো বলেন, ‘পরে ব্র্যাকের মাঠকর্মীর সহযোগিতায় আমি প্রথম ২০০৫ সালে স্কুলে ভর্তি হই। এখন নাজিম উদ্দিন ভূইয়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছি। ছোটবেলা থেকে আমার ইচ্ছা ছিল গরুর খামার করা। পড়াশোনার পাশাপাশি আমি সেই খামার করি। বর্তমানে আমার খামারে তিনটি গুরু আছে। গরুর দুধ বিক্রি করেই চলছে সংসার। প্রতি মাসে সংসার চালানোর পরও আমি মায়ের হাত খরচের জন্য চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা দিই। করোনার আগে কোচিংয়ে ক্লাস নিতাম। বাসায় ছাত্র পড়াতাম, তবে এখন পড়ানোর সুযোগ নেই। ’

নিজের শখের কথা জানিয়ে মোর্শেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার জীবনে খুব শখ ছিল আমার বাড়ির বাহিরটা দেখার। আমি সেই শখ পূরণ করতে পেরেছি। এখন বাড়ির বাইরেই শুধু নয়, দেশের বাইরে একাধিকবার গিয়েছি। ’ অভিনয়ে পারদর্শিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি দেশে-বিদেশে অনেক মঞ্চ নাটক করেছি। অভিনয় করতে আমার ভালোই লাগে। তাঁর মতে, কোনো মানুষ প্রতিবন্ধী নয়। সব প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে আগে নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে, পরিশ্রম করতে হবে, তবেই সফলতা আসবে। ’



সাতদিনের সেরা