kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

শতবর্ষের আলোচনায় বক্তারা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অতীত গৌরবে ফিরিয়ে নিতে হবে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অতীত গৌরবে ফিরিয়ে নিতে হবে

একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড বলে বিবেচনা করা হতো। এখন বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে অনেক পিছিয়ে পড়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক নড়বড়ে হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে পুরনো জায়গায় ফিরিয়ে নিতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন দক্ষ একাডেমিক লিডারশিপ।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত আলোচনাসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ ও সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের তৃতীয় দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, ডাকসুর সাবেক ভিপি রাশেদ খান মেনন, পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক রহমত উল্লাহ।

অনুষ্ঠান শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা ‘উদয়ের পথে এই আলোক তীর্থে’ শীর্ষক সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন। এ ছাড়া শতবর্ষ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক সংসদের আয়োজনে ছাত্র-শিক্ষক বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টি না হলে বোধ হয় পাকিস্তান সৃষ্টি হতো না। তৎকালীন পূর্ব বাংলার বাঙালিরাই পাকিস্তানের সৃষ্টি করেছিল। বাংলাদেশ সৃষ্টির যে আলোকবর্তিকা প্রজ্বালিত হয়েছিল, তার বেশির ভাগ কৃতিত্বের দাবিদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের ইতিহাস লিখতে হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান এককভাবে ৫০ শতাংশের বেশি।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতে গবেষণা বাড়ে, এটিকে যাতে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা যায়, সেটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সব সময় ভাবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ দেশে অনেক খ্যাতিমান মানুষ তৈরি করেছে। এসব খ্যাতিমান মানুষ ও শিক্ষকের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভবিষ্যতে জাতি গঠনে এই বিশ্ববিদ্যালয় ভূমিকা রাখবে।

ড. আতিউর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্মের সঙ্গে এই বিশ্ববিদ্যালয় জড়িত। বাঙালি জাতীয়তাবাদের আঁতুড়ঘর। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আমাদের ঋণের শেষ নেই। বঙ্গবন্ধু যে জাতীয়তাবাদের মূলমন্ত্রের কথা বলতেন, সেটিও তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকেই শিখেছিলেন।’

রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুসলিম জাতীয়তাবাদী চেতনাধারী হয়েও সাম্প্রদায়িকতায় ভেসে যায়নি। এটি ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এরপর ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।’



সাতদিনের সেরা