kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বাঁশখালীতে শূকরের ফাঁদে মরছে হাতি

♦ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় গত সাত বছরে ১৬ হাতি মরেছে
♦ অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যায় বলে প্রাথমিকভাবে মন্তব্য করেন কর্মকর্তারা

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাঁশখালীতে শূকরের ফাঁদে মরছে হাতি

বন্য শূকর ধরার ফাঁদ হিসেবে কলায় বিষ মিশিয়ে ফেলে রাখা হয়। সেই কলা খেয়ে একের পর এক হাতি মারা যাচ্ছে। চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় গত সাত বছরে ১৬ হাতির মৃত্যুর কারণ জানতে গিয়ে এ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বননির্ভর কৃষক বলেন, বাঁশখালীতে এক শ্রেণির মানুষ বন্য শূকর শিকার করে খায় এবং মাংস বেচে।

বিজ্ঞাপন

তারা পাহাড়ে প্রতিনিয়ত কলার ভেতর বিষ দিয়ে বন্য শূকর হত্যা করে। বন্য শূকরের জন্য রাখা বিষযুক্ত কলার ফাঁদে ওই পথ দিয়ে হাতির দল চলাচলের সময় বিষযুক্ত কলা খেয়ে হাতি মারা যায়। হাতি মারা যাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অসুস্থতাজনিত কারণে মারা যায় বলে প্রাথমিকভাবে মন্তব্য করেন। এ কারণে আসল ঘটনা ধামচাপা পড়ে।

বন বিভাগের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বাঁশখালীর বনে মারা গেছে ১৬টি হাতি। অসুস্থ হয়ে পড়া তিনটি হাতিকে সুস্থ করে বনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ গত বুধবার লটমনি পাহাড়ে এবং গত ১২ নভেম্বর চাম্বল বনবিট অফিসের অদূরে একটি হাতি মারা গেছে। ওই হাতির পেটের নিচে রক্তক্ষরণের দাগ থাকলেও ময়নাতদন্ত কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে অসুস্থতাজনিত কারণে মারা গেছে বলে মন্তব্য করেন।

বন সূত্র জানায়, গত সাত বছরে কালীপুর রেঞ্জে মারা গেছে ১০টি হাতি। জলদী ও পুঁইছড়ি রেঞ্জে ছয়টি। কালীপুর রেঞ্জের ২০৭৭.১৭ একর সংরক্ষিত বনের ভেতর নির্মাণ করা হয়েছে ছয়টি ভাটা। এসব ভাটায় অবিরত পাহাড় কেটে ইট তৈরি হলেও বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ওই সব এলাকায় বন বিভাগের পক্ষ থেকে সামাজিক বনায়ন করা হলেও তার অস্তিত্ব নেই। দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির কারণে বেশ কয়েকজন বিট কর্মকর্তার কার্যালয়ে ইঁদুরের বাসা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া বন দখলের কারণে প্রাণীরা টিকতে পারছে না।

বন বিভাগের কালীপুর রেঞ্জের কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হাতি মারা যাওয়া, পাহাড়খেকোদের পাহাড় কাটা, গাছ কাটা এবং ইটভাটা তৈরির ব্যাপারে বন বিভাগ একা দায়ী নয়। জেলা প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবং বন বিভাগের যৌথভাবে অভিযান ছাড়া প্রভাবশালীদের দমন করা যাবে না। ’ তিনি জানান, বন্য প্রাণী রক্ষায় বনে ফলদ বাগান সৃজন করা জরুরি। না হলে বনে এখনো যেসব প্রাণী আছে তা থাকবে না। ব্যাপক হারে হাতি মৃত্যুর কারণ বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে যাওয়া।

জলদী ও পুঁইছড়ি অভয়ারণ্যের রেঞ্জার এবং বাঁশখালী ইকোপার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, ‘বিস্তীর্ণ বনে লোকবলের খুবই অভাব। বনদস্যুদের নানামুখী অত্যাচারে বন্য প্রাণীরা খাদ্য সংকটে পড়েছে। ওই সব দাগি অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা করলেও ১০-১৫ দিনের মধ্যে জামিনে এসে আবারও বনাঞ্চল ধ্বংসে নেমে পড়ে। ’

বাঁশখালী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. সমরঞ্জন বড়ুয়া বলেন, ‘এভাবে মরলে ভবিষ্যতে সংরক্ষিত বনাঞ্চল হাতিশূন্য হয়ে পড়বে। ’



সাতদিনের সেরা