kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

বিজয়ের ৫০ বছর লাল সবুজের মহোৎসব শুরু

সোনার বাংলা গড়ার আহবান প্রধানমন্ত্রীর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সোনার বাংলা গড়ার আহবান প্রধানমন্ত্রীর

বিজয়ের ৫০ বছর- লাল-সবুজের মহোৎসব। গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হাতিরঝিল এম্ফিথিয়েটার প্রান্তে আয়োজিত এ উৎসব উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে তিনি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আতশবাজি উপভোগ করেন। ছবি : পিএমও ও কালের কণ্ঠ

উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার পর বাংলাদেশের যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা মোকাবেলায় প্রস্তুত হওয়ার জন্য ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, সবাইকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে গতকাল বুধবার রাতে ১৬ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা ‘বিজয়ের ৫০ বছর-লাল সবুজের মহোৎসব’ উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে অনুষ্ঠানস্থল রাজধানীর হাতিরঝিল এম্ফিথিয়েটারের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে ভার্চুয়ালি এই কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আজকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদায় উন্নীত হয়েছি এবং দেশকে আরো বেশি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অনেক সুযোগ আমরা পাব। এটা হয়তো উন্নয়নশীল দেশ হতে না পারলে আমরা পেতাম না। সেখানে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য আমরা সব সময় প্রস্তুত। আর আওয়ামী লীগ সরকার যতক্ষণ ক্ষমতায় রয়েছে, সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমরা পিছিয়ে থাকিনি। ’

তিনি বলেন, ‘আমি ব্যবসায়ীদেরও বলব, আপনারাও সেভাবে প্রস্তুতি নেবেন। মনে রাখবেন এই দেশ এবং এই মাটি আপনাদের সুযোগ দিয়েছে। জাতির পিতা স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন বলে আজকে ব্যবসায়ী, না হলে কোনো সুযোগই বাঙালির জীবনে ছিল না। আমরা তখন শোষণ, বঞ্চনার শিকার হয়েছি। কাজেই সবাই এই দেশ উন্নত করতে এবং দেশের মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করে যাবেন। ’

ব্যবসায়ীদের সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) এ আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইর সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, কাউন্সিলর, ব্যবসায়ী নেতা ও রাজনৈতিক নেতা, বিদেশি কূটনীতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী ও কলাকুশলী এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট নাগরিকরা অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গণভবনে উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী পর্বে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন কর্মসূচির ওপর একটি ভিডিও চিত্র এবং পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এটি পরে টেলিভিশনে উপভোগ করবেন।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সহযোগিতায় সবার জন্য উন্মুক্ত এই আয়োজন হাতিরঝিল এম্ফিথিয়েটারে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হবে এবং ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে দেশকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে তুলে ধরার প্রয়াসে সব বয়সী লোকের জন্য বিনোদন হিসেবে থাকবে গান, নাচসহ নানা রকম সাংস্কৃতিক আয়োজন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁর সরকার বেসরকারি খাতকে যেমন সুযোগ দেয়, তেমনি আমাদের দেশের তৃণমূলে যে মানুষগুলো পড়ে আছে, তাদের উন্নয়নের জন্যও ব্যাপক কাজ করে যাচ্ছে। ’

তিনি বলেন, ‘সে ক্ষেত্রে আমি ব্যবসায়ীদের বলব, প্রত্যেকেই নিজ নিজ এলাকার জনগণের আর্থিক উন্নয়নে কর্মসূচি গ্রহণ করবেন। কারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা যত বৃদ্ধি পাবে আপনাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের ততই প্রসার ঘটবে, তেমনি আপনাদের কলকারখানার উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার জন্য বাজারও সৃষ্টি হবে। এতে মানুষের ভাগ্য যেমন পরিবর্তিত হবে আপনাদের আয়ও বদ্ধি পাবে। ’

তিনি বিজয়ের মাসের প্রথম দিনে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করার জন্য এফবিসিসিআই ও তাঁর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং পাশাপাশি বিজয়ের মাসব্যাপী ডিএনসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য মেয়র আতিকুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানান।

‘আওয়ামী লীগ সরকার ব্যবসা করতে আসেনি, কিন্তু তাঁর সরকার ব্যবসাবান্ধব’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়ার পাশাপাশি ব্যবসার প্রসার ঘটানো এবং দেশের সবাই যেন তাদের আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে, সেটাই তাঁর সরকারের লক্ষ্য।

সূত্র : বাসস।



সাতদিনের সেরা