kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

কক্সবাজার বিমানবন্দর

রানওয়ে যেন সাধারণের সড়ক

♦ বিমানের ধাক্কায় গরু নিহত
♦ চার আনসার সাময়িক বরখাস্ত
♦ ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন
♦ গতকালও বিমানবন্দরে গরু চড়াতে দেখা যায়

তোফায়েল আহমদ, কক্সবাজার   

২ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে দুটি গরুর সঙ্গে একটি বিমানের ধাক্কা লাগার পরের দিন গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দৃশ্য : রানওয়েতে একটি বিমান অবতরণ করতে যাচ্ছে। এই সময়ে এক বৃদ্ধা পশ্চিমের উত্তর নাজিরার টেকপাড়া থেকে দৌড়ে রানওয়ে পার হন পূর্বের ঠুইঠ্যাপাড়ায় যাওয়ার জন্য। বিমানটি অবতরণ করে টারমাকের দিকে চলে যায়। কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি গিয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, কেন তিনি এ কাজ করলেন।

বিজ্ঞাপন

হাঁপাতে হাঁপাতে সৈয়দা খাতুন (৬০) বলেন, ‘আঁরা দুই পাশদ্দি দুইয়ান পারার মানুইষজনর মাঝদ্দি বিমানবন্দর অইয়্যে। আঁরাত্তু যাতায়াত গরা পরে। বিপদ-আপদ অইত পারে তও কিচ্ছু গরার নাই। ’ অর্থাৎ আমাদের দুই পাশে দুই পাড়ার বাসিন্দাদের মাঝখানেই বিমানবন্দর পড়ে গেছে। আমাদের যাতায়াত তো করা লাগে। বিপদ-আপদ হতে পারে, তবুও কিছুই করার নেই। তিনি জানান, তাঁরা লাল বাতি দেখে পার হন। তবে আজ রোদের কারণে লাল বাতি তাঁর চোখে পড়েনি।

গতকাল সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বিমানবন্দরটি ঘুরে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের যত্রতত্র বিচরণ করছে গরু-ছাগল এবং হাঁস-মুরগি। শত শত লোক পার হচ্ছে রানওয়ে দিয়ে।

দেখা যায়, রানওয়ের উত্তর দিকে যেখানে আনসার ব্যারাকের নির্মাণকাজ চলছে, সেখান দিয়েই শত শত লোকের যাতায়াত। চরে বেড়াচ্ছিল ছাগল ও গরু। এ রকম ঝুঁকির মধ্যেই এই বিমানবন্দরে দিনে ওঠানামা করে ৪০টি যাত্রীবাহী ফ্লাইট।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে যাত্রীবাহী বিমানের ঝুঁকির মুখে পড়ার ঘটনায় চার আনসারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ওই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। গত কয়েক বছরে রানওয়েতে উড়োজাহাজের সামনে কুকুর ও পাখি পড়ার ঘটনাও আছে।

এসব নিয়ে বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক গোলাম মর্তুজা হোসেন কথা বলতে রাজি হননি। তিনি শুধু বলেন, ‘আমি মাত্র মাসখানেক আগে এখানে এসেছি, যা জানার তা বিমানের পিআরও (গণসংযোগ কর্মকর্তা) জানাবেন। ’ তবে তিনি তদন্ত কমিটি ও আনসারদের সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিমানের গণসংযোগ কর্মকর্তা সোহেল কামরুজ্জামানের মোবাইল ফোনে কল করে বন্ধ পাওয়া যায়। মোবাইলে মেসেজ দেওয়া হলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

গতকাল বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে একটি গরু চরাচ্ছিলেন হাজেরা খাতুন নামের এক বৃদ্ধা। তিনি বলেন, ‘আমার একটিমাত্র গরু। কোথাও ঘাস নেই। একমাত্র বিমানবন্দরে আছে। তাই এখানে গরুটি এনে বেঁধে দিই। ’

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হানিফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আগে ছিল ছোট, এখন অনেক বড় ও দীর্ঘ হয়েছে রানওয়ে ও বিমানবন্দর। মাত্র ১২৯ জন আনসার ও ৩৪ জন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্য রয়েছেন বিমানবন্দরের দায়িত্বে। প্রয়োজনের তুলনায় আনসারের সংখ্যা অত্যন্ত কম।

বিমানবন্দরটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রূপ দেওয়ার জন্য উন্নয়নকাজ চলছে। ৬৭৫ ফুট রানওয়ে বাড়িয়ে এরই মধ্যে ৯ হাজার ফুটে উন্নীত করা হয়েছে। রানওয়েটি ১০ হাজার ৭০০ ফুট লম্বা করার জন্য কাজ চলছে। এই কাজ শেষ হলে দেশের দীর্ঘ রানওয়ে সম্পন্ন বিমানবন্দর হবে কক্সবাজার।



সাতদিনের সেরা