kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিন : রাষ্ট্রপতি

♦ গৌরব ফেরাতে প্রয়োজন মহাপরিকল্পনা : শিক্ষামন্ত্রী
♦ মেধা ও মননে মুখরিত এই অপরাজেয় চত্বর : স্পিকার
♦ আন্তর্জাতিক জ্ঞানরাজ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য : উপাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দিন : রাষ্ট্রপতি

‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নেতৃত্ব দিতে বললেন রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে ‘রূপকল্প-২০৪১’ অভিযাত্রাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন সক্ষম, দক্ষ ও মেধাবী জনশক্তি তৈরি করা।” রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ যাত্রাপথে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকবে।

গতকাল বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তি ও মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বঙ্গভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের মূল অনুষ্ঠানস্থল ছিল নবীন-প্রবীণ শিক্ষার্থীদের মিলন মেলা। শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের পর প্রদর্শিত হয় ‘শতবর্ষের তথ্যচিত্র’। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ, নৃত্যকলা বিভাগ ও দেশের প্রথিতযশা শিল্পীরা শতবর্ষের ‘থিম সং’ পরিবেশন করেন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা ও যোগ্যতা বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাড়াতে এগিয়ে আসতে হবে। একজন শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে হবে।’ তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও পাঠ্যক্রম নির্ধারণ ও পাঠদানের ক্ষেত্রে বিশ্বমানের কথা বিবেচনায় রাখার নির্দেশনা দেন।

বিশ্বজুড়ে তথ্য-প্রযুক্তির প্রসারের সফলতা প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যাতে তথ্য-প্রযুক্তিসহ জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব শাখায় এগিয়ে যেতে পারে, সেভাবে তাদের গড়ে তুলতে হবে।’

সম্মানীয় অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গৌরব ও ঐতিহ্য নিয়ে শতবর্ষে এসে জ্ঞানের আলোর বিচ্ছুরণ ঘটাচ্ছে। তিনটি অনুষদ নিয়ে যাত্রা শুরু করা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ প্রায় ৪০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। মেধা ও মননে মুখরিত এই অপরাজেয় চত্বর।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আমার আবেদন, ভৌত মহাপরিকল্পনার আগে একাডেমিক মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। সেটাকে পূর্ণতা দিতে বাস্তবায়িত হোক ভৌত মহাপরিকল্পনা। সরকারের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে।’

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘পূর্ব বাংলায় একটি শিক্ষিত, মধ্যবিত্ত ও বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেণির বিকাশ ঘটিয়ে একটি জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং সেই রাষ্ট্রের সঙ্গে সমাজ, অর্থনীতি ও সংস্কৃতির বিবর্তন ও উন্নয়নে অব্যাহতভাবে যদি কোনো একক প্রতিষ্ঠান অনন্য সাধারণ ভূমিকা ও অবদান রেখে থাকে, সেটা নিঃসন্দেহে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এটি বিশ্বে বিরল। আন্তর্জাতিক জ্ঞানরাজ্যেও এর অবদান অনস্বীকার্য।’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী শহীদুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ ও অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল এবং ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদ। রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদকে বিশেষ স্যুভেনি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ।



সাতদিনের সেরা