kalerkantho

শনিবার । ১৫ মাঘ ১৪২৮। ২৯ জানুয়ারি ২০২২। ২৫ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

এমপি মেয়র উপজেলা ও ইউপি চেয়ারম্যান একই গ্রামের

শাহ ফখরুজ্জামান, হবিগঞ্জ   

৩০ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হবিগঞ্জ সদর উপজেলার শহরতলির গ্রাম রিচি। প্রায় আট হাজার ভোটার এবং বিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত গ্রামটি শহর থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ঐতিহ্যবাহী এই গ্রামে অনেক খ্যাতিমান মানুষের জন্ম। তবে এবার গ্রামটি আলোচনায় এসেছে নির্বাচনে গ্রামের মানুষের একের পর এক সফলতার কারণে।

বিজ্ঞাপন

গত রবিবার শেষ হওয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রিচি গ্রামের আব্দুর রহিম নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ায় তিন টার্ম পর এই গ্রাম থেকে চেয়ারম্যান এসেছে। এর আগে এই গ্রামের সন্তান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির হবিগঞ্জ-৩ (সদর, লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। সম্প্রতি শেষ হওয়া হবিগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকা নিয়ে বিজয়ী আতাউর রহমান সেলিমও এই গ্রামের।

এর আগে রিচি গ্রামের মোতাচ্ছিরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ফলে এখন জেলা সদরের চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ওই গ্রামের সন্তানরা আসীন।  

শুধু জনপ্রতিনিধিই নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ফোরামেও রয়েছেন রিচি গ্রামের অনেকে। চাকরিসহ কর্মজীবনেও গ্রামের অনেক সফল ব্যক্তি রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিচি গ্রাম থেকে চার জনপ্রতিনিধি ছাড়াও জেলার বিভিন্ন সংগঠনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন অনেকেই। রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক রিচি গ্রামের। চেম্বার প্রেসিডেন্ট ও জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের  প্রেসিডেন্টের বাড়িও ওই গ্রামে। জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি, জেলা শ্রমিক লীগ সভাপতি, জেলা যুবলীগ সভাপতি, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ও হবিগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বাড়িও রিচি গ্রামে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতিও ছিলেন ওই গ্রামের সন্তান। তবে মাসখানেক আগে নতুন কমিটি আসায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে গ্রামটির কেউ নেই। তবে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে রয়েছেন। এ ছাড়া হবিগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের আহ্বায়কের বাড়িও রিচি গ্রামে।

গ্রামের সৈয়দ মনোয়ার হোসেন দেশের একজন বিশিষ্ট শিল্পপতি। সাবেক শিক্ষা ও কৃষিসচিব সৈয়দ আতাউর রহমানের বাড়িও ওই গ্রামে।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও রিচি গ্রামের ফজলুর রহমান বলেন, ‘রিচি গ্রামের মানুষ ঐক্যবদ্ধ ও পরিশ্রমী। তাই বিভিন্ন পর্যায়ে তারা সফল হচ্ছেন। এই গ্রামের সামাজিক ও পঞ্চায়েত ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী। ফলে বলা হয় রিচি একটি আদর্শ গ্রাম। এই গ্রামে আছে পাঁচটি প্রাথমিক স্কুল, একটি হাই স্কুল, একটি কলেজ ও দুটি মাদরাসা থাকায় শিক্ষার ভালো সুযোগ ও পরিবেশ গড়ে উঠেছে।

রিচি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী কামাল উদ্দিন বলেন, গ্রামটি আয়তনে অনেক বড় এবং বাসিন্দাদের মাঝে একতা বেশি। যেহেতু বড় গ্রাম, তাই প্রাকৃতিকভাবে নেতৃত্ব গুণ সৃষ্টি হয়। বড় গ্রাম হওয়ায় মন মানসিকতা, চেতনাও হয় বড়। গ্রামের কেউ যদি সামনে এগিয়ে যায় তাহলে তাকে পেছন থেকে কেউ টেনে ধরে না, বরং এগিয়ে যাওয়ার জন্য অন্যরা সহায়তা করে।

হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু জাহির বলেন, ‘এই গ্রামের যারাই সফল হয়েছেন, তাঁদের অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষা রয়েছে। কেউই উত্তরাধিকার সূত্রে নেতা হননি। কঠোর পরিশ্রম ও সাধনার পাশাপাশি জনগণের ভালোবাসা নিয়েই সফল হয়েছেন। ’



সাতদিনের সেরা