kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

আরো তিনজনের মৃত্যু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩০ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আরো তিনজনের মৃত্যু

তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনায় আরো তিনজন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের খনগাঁও ইউনিয়নে গুলিতে মৃতের সংখ্যা দুই থেকে বেড়ে তিন, কক্সবাজারের চকরিয়ায় নৌকার বিজয় মিছিলে হামলায় আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভাগ্নে নিহত এবং সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সংঘর্ষে আহত এক এসএসসি পরীক্ষার্থী মারা গেছে। এ নিয়ে গত রবিবার ভোটের দিন সহিংসতায় ১২ জন নিহত হয়েছে। সংঘর্ষ ও হামলায় আহত হয়েছে অন্তত ৩৩ জন।

বিজ্ঞাপন

তিন ধাপের ইউপি নির্বাচনে সহিংসতায় নিহত ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়াল ৬৮। এর মধ্যে প্রথম ধাপে সাতজন, দ্বিতীয় ধাপে ৪১ জন, তৃতীয় ধাপে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ২০ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া রাজবাড়ীতে চতুর্থ ধাপের নির্বাচনে সম্ভাব্য এক প্রার্থী গুলিতে নিহত হয়েছেন।

পীরগঞ্জ উপজেলার খনগাঁও ইউনিয়নের ঘিডোব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রবিবার রাতে ভোটের ফল ঘিরে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর গুলিতে নিহত আরেকজন হলেন আদিত্য রায় (১৮)। তিনি ঘিডোব গ্রামের অবিনাশ চন্দ্রের ছেলে এবং লোহাগাড়া ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতাল থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। এর আগে গুলিতে দুজন নিহত হয়। সংঘর্ষে আহত হয় নারীসহ অন্তত ১০ জন।

পীরগঞ্জ থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানান, হতাহতের ঘটনায় গতকাল পুলিশ বাদফী হয়ে অচেনা ৭০০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছে।

অবিনাশ চন্দ্র বলেন, ভোটগণনার পর বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুজ্জামান ও তাঁর সমর্থকরা প্রিজাইডিং অফিসারসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ঘিরে ফেললে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় তাঁর ছেলে আদিত্য বাড়িতে ভাত খাচ্ছিল। গুলির শব্দ পেয়ে সে ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার মাথায় ও পায়ে গুলি লাগে।

কক্সবাজারের চকরিয়ার বদরখালী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী নূরে হোছাইন আরিফের বিজয় মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীদের পিটুনিতে নিহত হন নৌকার কর্মী ও আরিফের ভাগ্নে গিয়াস উদ্দিন মিন্টু (৪৫)। এ সময় হানিফ নামের একজন গুলিবিদ্ধসহ কয়েকজন আহত হয়। গিয়াস বদরখালীর ঢেমুশিয়াপাড়ার আবুল মকছুদের ছেলে। গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে বদরখালী বাজারের কাছে গাউছিয়া মসজিদ-হেফজখানার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলার জন্য পরাজিত প্রার্থী চশমা প্রতীকের হেফাজ সিকদার ও তাঁর লোকজনকে দায়ী করেছেন নৌকার প্রার্থী। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে পরিবার। তবে অভিযুক্ত হেফাজ সিকদারের দাবি, ঘটনার সঙ্গে তিনি কিংবা তাঁর কর্মী-সমর্থকরা জড়িত নয়।

এদিকে বিএমচর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদিউল আলম অভিযোগ করেছেন, বিএনপি-জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের বিজয় নিশ্চিত করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শংকর কুমার বিশ্বাস তাঁকে প্রকাশ্যে কয়েক দফা লাঞ্ছিত করেছেন। কয়েক ঘণ্টা আটকে রেখে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। ফলে নৌকার সমর্থকরা ভোটকেন্দ্র ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কেন্দ্রের ফল পাল্টে জাহাঙ্গীর আলমকে জয়ী ঘোষণা করতে রিটার্নিং অফিসারকে বাধ্য করেন। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বদিউল আলম এসব অভিযোগ করেন। এসবের প্রতিবাদে চকরিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মানববন্ধন করেছেন দলীয় নেতাকর্মীসহ কয়েক হাজার নারী-পুরুষ। চকরিয়া ইউএনও সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লাপাড়ায় নিহত দেলোয়ার হোসেন সাগর (১৫) উপজেলার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের মাছুয়াকান্দি গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে ও সলঙ্গা ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী। রবিবার রাত ১১টার দিকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সাগরের নানা দুলাল মৃধা জানান, রবিবার মাছুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট চলাকালে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী হীরা সর্দার ও সেলিম মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।



সাতদিনের সেরা