kalerkantho

সোমবার । ৩ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

শেষ মুহূর্তে করদাতার উপচে পড়া ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শেষ মুহূর্তে করদাতার উপচে পড়া ভিড়

আয়কর রিটার্ন গ্রহণ ও তথ্য সেবা মাসের শেষ সময়ে করদাতাদের ভিড়। গতকাল কর অঞ্চল-১০ থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

করোনার কারণে গত বছরের মতো এ বছরও আয়কর মেলার আয়োজন করা হয়নি। এর পরিবর্তে দেশজুড়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন ৩১টি কর অঞ্চলের ৬৪৯টি সার্কেলে রিটার্ন জমা নেওয়া হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার আয়কর রিটার্ন জমা নেওয়ার শেষ দিন। কর অঞ্চলগুলোয় এত দিন রিটার্ন জমা দিতে তেমন ভিড় না থাকলেও শেষ মুহূর্তে করদাতার উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। তবে ভোগান্তির অভিযোগ করেননি কোনো করদাতা।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, করদাতাদের বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এবার বাড়ানো হবে না। তবে কেউ নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা দিতে না পারলে আইন অনুযায়ী সময় চেয়ে আবেদন করতে পারবেন।

এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব দীপক কুমার পাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কী পরিমাণ আয়কর রিটার্ন জমা পড়ছে দু-তিন দিন পর পর কর অঞ্চল থেকে তা আমাদের জানানো হয়। ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের সব কর অঞ্চল মিলিয়ে ১০ লাখ ৫০ হাজার রিটার্ন জমা পড়েছে।’

সরেজমিনে গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিভিন্ন কর অঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি বুথের সামনে লম্বা লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে করদাতারা আয়কর রিটার্ন জমা দিচ্ছেন।

সেগুনবাগিচার কর অঞ্চল-৬-এ দেখা গেছে, রিটার্ন জমা দিতে প্রতিটি বুথে ভিড়। কর কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদ হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার এক দিনেই আমাদের এখানে ১২ হাজার রিটার্ন জমা পড়েছে। প্রথম ১৫ দিনে রিটার্ন জমা পড়েছিল ১২ হাজারের মতো। শেষ দিকে প্রচুর চাপ বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘গতকাল সোমবার পর্যন্ত এই কর অঞ্চলে ২৯ দিনে রিটার্ন জমা পড়েছে ৬৫ হাজারের বেশি। গত বছর নভেম্বরে ৬৮ হাজার রিটার্ন জমা পড়েছিল। এ বছর প্রায় ৮০ হাজার রিটার্ন জমা পড়বে বলে আশা করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘৩০ নভেম্বর রিটার্ন দাখিলের শেষ দিন। এ বছর রিটার্ন জমার সময় বাড়ানো হবে না। তবে করদাতার সমস্যা থাকলে সময় বৃদ্ধির আবেদন করতে পারবেন। প্রতি মাসে ২ শতাংশ জরিমানাসহ জমা দিতে পারবেন।’

কর অঞ্চল-৬-এ আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শেষ সময়ের কারণে ভিড় বেশি। তবে কর কর্মকর্তারা দ্রুত সময়ে ও আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিচ্ছেন। মেলা না হলেও মেলার চেয়ে সুন্দর পরিবেশে রিটার্ন জমা নেওয়া হচ্ছে।’

কর অঞ্চল-৩-এও দেখা গেছে একই চিত্র। এই কর অঞ্চলে আয়কর জমা দিতে এসেছেন পুরান ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালের কর্মকর্তা মো. মাসুম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এক ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে রিটার্ন জমা দিয়েছি। এটি আমাদের অলসতার কারণে। তবে কোনো রকম হয়রানি করা হচ্ছে না।’

কর অঞ্চল-১২-এ ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত রিটার্ন জমা পড়েছে প্রায় ৮০ হাজার। এই কর অঞ্চলের কর কর্মকর্তারা জানান, ২০ নভেম্বরের আগে দিনে এক হাজারের বেশি রিটার্ন জমা পড়েনি। রবিবার ও সোমবার এই দুই দিনে জমা পড়েছে প্রায় ২৪ হাজার রিটার্ন। ভিড় বেশি থাকায় রিটার্ন জমার নির্ধারিত সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত থাকলেও তা রাত ৮টা পর্যন্ত করা হয়েছে।

এনবিআর সূত্র জানায়, দেশের প্রায় ৬৮ লাখের বেশি কর শনাক্তকারী নম্বরধারী (টিআইএন) আছেন। এঁদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ টিআইএনধারী নিয়মিত রিটার্ন জমা দেন। এ বছর এই সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।



সাতদিনের সেরা