kalerkantho

সোমবার ।  ১৬ মে ২০২২ । ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৪ শাওয়াল ১৪৪৩  

র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলন

গাড়ি না থামিয়ে কবিরকে পিষে পালান হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজধানীর পান্থপথে আহসান কবির খানকে চাপা দেওয়া ময়লার গাড়িটির চালক হানিফ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) কর্মী ছিলেন না সত্ত্বেও তিন বছর ধরে তিনি সংস্থাটির বিভিন্ন ধরনের ভারী ও হালকা যানবাহন চালাচ্ছিলেন। ময়লাবাহী ‘ডাম্প ট্রাক’ একটি ভারী যান হওয়ায় তা চালানোর জন্য পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রয়োজন হলেও হানিফের নামে রয়েছে হালকা যানবাহন চালানোর লাইসেন্স।

নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার হারুন মিয়া ও মো. রাসেলেরও রয়েছে হালকা যানবাহন চালানোর লাইসেন্স। অথচ যাঁদের নামে এসব গাড়ি বরাদ্দ, সেসব চালকের কেউ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের গাড়ি চালান না।

বিজ্ঞাপন

গাড়ি চালান বাইরের লোক। মূলত তেল চুরি করে টাকা আত্মসাৎ করাই তাঁদের ‘বেতন’। তবে তেল বিক্রির টাকা এই চালকরা একাই পকেটে ঢোকাতেন না, করপোরেশনের অন্যদেরও ভাগ দিতেন।

কবির খানের মৃত্যুর ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে চাঁদপুর থেকে গ্রেপ্তার হানিফ এবং নটর ডেম ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার দুই চালককে জিজ্ঞাসাবাদে এ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

গতকাল শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আহসান কবির খানকে চাপা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন হানিফ। ’

কবির খানের মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেপ্তার হানিফ কাগজে-কলমে ডিএনসিসির কেউ নন জানিয়ে র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, তিনি মূলত ডিএনসিসিতে গাড়ি মেরামত ওয়ার্কশপে মূল মেকানিকের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। করপোরেশনে কর্মরত ব্যক্তিদের সঙ্গে ‘সুসম্পর্কের’ কারণে তিনি তিন বছর ধরে ডিএনসিসির ভারী ও হালকা গাড়ি চালাতেন। এক বছর ধরে ওই ময়লাবাহী ‘ডাম্প ট্রাক’ চালাচ্ছিলেন। র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘এ জন্য তাঁকে কোনো নির্দিষ্ট বেতন দেওয়া হতো না। গাড়ির জন্য বরাদ্দ তেলের ১৭ থেকে ২২ লিটার বিক্রিই ছিল তাঁর আয়ের উৎস। ’

আহসান কবির নিহত হওয়ার আগের দিন বুধবার গুলিস্তান এলাকায় নটর ডেম ছাত্র নাঈম হাসান ডিএসসিসির ময়লাবাহী গাড়ির চাপায় নিহত হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া গাড়ির মূল চালক হারুন মিয়ার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল শনিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মঈনুল ইসলামের আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আল মঈন বলেন, বৃহস্পতিবার পান্থপথে আহসান কবিরকে চাপা দেওয়া গাড়ির চালক হানিফের (২৩) সঙ্গে সহকারী হিসেবে ছিল ১০ বছরের একটি শিশু। পান্থপথ হয়ে গাবতলীতে ময়লা ফেলার কথা ছিল তাঁদের। প্রতিদিনের মতো ওই দিনও তিন থেকে চারবার এ পথে যাওয়ার কথা ছিল গাড়িটির। তৃতীয়বার ময়লা নিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটে এবং তাঁরা ভয়ে পালিয়ে যান। ঘটনার পর গ্রিন রোডে গাড়ি রেখে হানিফ প্রথমে গাবতলীতে যান। পরে সেখান থেকে চাঁদপুরে নানাবাড়িতে আত্মগোপন করেন।



সাতদিনের সেরা