kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

জাতীয় সংসদ অধিবেশন

মহাসড়কে টোল আদায়ে সংসদে বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মহাসড়কে টোল আদায়ে সংসদে বিল পাস

মহাসড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং টোল আদায়ে সড়ক ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত বিল ‘মহাসড়ক বিল-২০২১’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সংসদে বিল পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

গতকাল শনিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিলটি পাস হয়। এর আগে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে পাঠান এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন স্পিকার।

বিজ্ঞাপন

গত ৪ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে তোলার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

১৯২৫ সালের হাইওয়ে অ্যাক্ট রহিত করে মহাসড়ক, নির্মাণ, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং অবাধ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ যান চলাচলের জন্য বিলটি পাসের কথা জানানো হয়েছে সংসদে। বিলের বিধানে উল্লেখ করা হয়েছে, এই আইন অমান্য করলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা হবে।

বিলে বলা হয়েছে, আইনের অধীনে গেজেট প্রকাশ করে সরকার বলে দেবে কোন সড়ক বা মহাসড়কে কে প্রবেশ করবে, কে করবে না। কোনটা মহাসড়কের সঙ্গে এক্সপ্রেসওয়ে হিসেবে ঘোষণা করা হবে। পরিচালনা কেমন হবে। কোনগুলোর টোল নেওয়া হবে।

বিলে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব থেকে মহাসড়কের সম্ভাব্য ক্ষতি হ্রাসের জন্য মহাসড়ক নেটওয়ার্কের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব কাটিয়ে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

সরকার বা সরকারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি মহাসড়ক উন্নয়ন, মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণ, মহাসড়ক সংশ্লিষ্ট স্যুয়ারেজ সিস্টেম, ড্রেন, কালভার্ট, সেতু নির্মাণ ও সংস্কার করবে বলেও বিলে বিধান রাখা হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, নির্ধারিত মাসুল দিয়ে নাগরিক সেবাদানকারী সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মহাসড়কের প্রান্তসীমা বরাবর ইউটিলিটি সংযোগগুলো নিতে পারবে।

তবে শর্ত থাকবে, মহাসড়কের উন্নয়ন, মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণের সময় প্রয়োজন হলে ওই ইউলিটি সংযোগগুলো সেবাদানকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজ খরচে নির্দিষ্ট সময়ে অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে স্থানান্তর করবে।

বিলে মহাসড়ক বা সড়কের স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি, অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে কী করণীয় হবে এবং সার্ভে করার জন্য কত দূর পর্যন্ত মানুষের বাড়ি ঢুকতে পারবে সেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

বলা হয়েছে, ফসল, খড় বা অন্য কোনো পণ্য শুকানোর কাজে মহাসড়ক ব্যবহার করা যাবে না। নির্ধারিত স্থান ছাড়া হেঁটে যাওয়া যাবে না। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া মহাসড়কে বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, তোরণ টাঙানো বা স্থাপন করা যাবে না। ধীরগতির যান মহাসড়কের নির্ধারিত লেন ছাড়া অন্য লেন ব্যবহার করতে পারবে না। নতুন আইনে মহাসড়কের ক্ষতি হ্রাস, স্থায়িত্ব, সার্বিক নিরাপত্তা ও যানবাহন চলাচলে গতিশীলতা করতে ওভারলোড নিয়ন্ত্রণসহ প্রয়োজনীয় বিধান রাখা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা