kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ২৮ জানুয়ারি ২০২২। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ময়মনসিংহ জেলা

মাধ্যমিকেই ঝরে গেল ১৮৫০০

সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ঝরে গেছে সপ্তম শ্রেণি থেকে

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ    

২৮ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনা সংকটের ছোবলে ময়মনসিংহ জেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরে গেছে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থীই বেশি। সম্প্রতি পুরো জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এ তথ্য এসেছে জেলা শিক্ষা বিভাগের হাতে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এ বছরের মার্চে জেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় তিন লাখ ২৭ হাজার।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে ঝরে গেছে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০।

বিদ্যালয়গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ই চেষ্টা করছে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু সেভাবে সুফল মিলছে না। একাধিক শিক্ষক জানান, অনেক শিক্ষার্থী জীবিকার প্রয়োজনে এলাকা ছেড়ে দিয়েছে। অনেকে বিয়ে করে চলে গেছে অন্যত্র। তাদের ফিরিয়ে আনা হয়তো সম্ভবই হবে না। তবে শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, এমন সংখ্যার শিক্ষার্থী প্রতি বছর স্বাভাবিকভাবেই ঝরে পড়ে। পার্থক্য হলো এবার শিক্ষা বছর শেষ হওয়ার আগেই ঝরে গেল। আরো কিছু শিক্ষার্থী শিক্ষাবর্ষ শেষ হওয়ার পর ঝরে যাওয়ার আশঙ্কাও করছে অনেকে।

জেলা শিক্ষা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ময়মনসিংহ জেলাতেও মাধ্যমিকে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সম্প্রতি পুরো তথ্য এসেছে জেলা শিক্ষা অফিসে। এতে দেখা গেছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার বেশি। সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী ঝরে গেছে সপ্তম শ্রেণি থেকে।

ফুলপুর উপজেলার সিংহেশ্বর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সারওয়ার জাহান জানান, তাঁর বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ছিল ৬৫০-এর মতো। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ জন শিক্ষার্থী ঝরে গেছে। তবে শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু অনেকেই আর আসেনি। ফুলবাড়িয়া উপজেলার অন্বেষণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিজাম উদ্দিন খান জানান, তাঁর বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৪২৮। এর মধ্যে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী এখন আর বিদ্যালয়ে আসছে না। হালুয়াঘাট উপজেলার কে কে  উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু সালেক ইব্রাহীম জানান, তাঁর বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী প্রায় ৯০০। এর মধ্যে ৪০ জন ঝরে গেছে। গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার নিগুযারি ইউনিয়নের কুরচাই এমপি এম উচ্চ বিদ্যালয়ে সাড়ে ৪০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে এখন অনুপস্থিত প্রায় ১০০। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অনেক শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়ে গেছে। কেউ এলাকাতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। আবার কেউ অন্য স্থানে চলে গেছে কাজের আশায়। ’

একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবক জানান, অভাব, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা এবং অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণেই শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। একাধিক স্থানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক ছেলে শিক্ষার্থী সংসারের আর্থিক সংকট মেটাতে গ্রাম ছেড়েছে। অনেকে আবার এলাকাতেই দিনমজুরের কাজ করছে। মেয়ে শিক্ষার্থীদের অনেকের বিয়ে হয়েছে গোপনে। এরা চলে গেছে শ্বশুরবাড়ি।

ময়মনসিংহ কমার্স কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক স্বপন ধর বলেন, ‘শিক্ষার চলমান সংকট সমাধানে সবার সমন্ব্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। এলাকায় মতবিনিময় সভা করতে হবে। শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভীতি দূর করতে হবে। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে রাখতে শিক্ষাকে আনন্দময় করতে হবে। ’

ময়মনসিংহ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শুরু থেকেই চেষ্টা করছি, শিক্ষার্থীরা যেন ঝরে না যায়। কিন্তু এর পরও কিছু শিক্ষার্থী ঝরে গেছে। এখনো তাদের ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা অব্যাহত আছে। ’



সাতদিনের সেরা