kalerkantho

সোমবার ।  ২৩ মে ২০২২ । ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২১ শাওয়াল ১৪৪৩  

শিমুলিয়া এখন ‘ভিআইপি’ ফেরিঘাট

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৭ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিমুলিয়া এখন ‘ভিআইপি’ ফেরিঘাট

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ফেরিঘাটে বিক্ষুব্ধ সাধারণ যাত্রীরা গতকাল এভাবেই আটকে দেয় ভিআইপি গাড়ি। ছবি : কালের কণ্ঠ

মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ফেরিঘাট এখন ‘ভিআইপি’ ফেরিঘাটে পরিণত হয়েছে। শুক্রবারসহ ছুটির দিনগুলোতে এখানে ভিআইপিদের (অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি) গাড়ির চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয় বিআইডাব্লিউটিসি, ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। অন্য সাধারণ গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটে আটকা থাকছে। তিন দিনেও ফেরি পার হতে পারছে না পিকআপ।

বিজ্ঞাপন

এতে যাত্রী ও শ্রমিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। ঘাটে বিক্ষুব্ধ অবস্থা বিরাজ করছে। আটকে পড়া পিকআপ চালকরা ভিআইপি গাড়িকে ফেরিতে উঠতে না দেওয়ার চেষ্টাও চালান। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেরি কম থাকায় এই অবস্থা বিরাজ করছে।

জানা গেছে, ভিআইপিদের গাড়ির সংখ্যা এত বেশি নয় যে সেগুলোর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হবে বা অন্যান্য গাড়ি আটকে রাখতে হবে ঘাট কর্তৃপক্ষকে। বরং অনেকেই ভিআইপির সুযোগ নিচ্ছেন। সরকারি বড় কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের ফোনে তাঁদের আত্মীয় ও পরিচিতজন গাড়িতে করে আগে আগে ফেরি পার হয়ে যায়।

ঘাটে আহাজারি

গতকাল শুক্রবার শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ভিআইপি গাড়ির চাপ সামলাতে বা সেগুলো ফেরি পার করতে ব্যস্ত ফেরি কর্তৃপক্ষসহ ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা। এতে ঘাটে কয়েক দিন ধরে আটকে পড়া বিক্ষুব্ধ পিকআপ চালকরা ফেরিতে উঠতে থাকা ‘ভিআইপি গাড়ির’ সামনে দাঁড়িয়ে সেগুলো থামানোর চেষ্টা করছিলেন। আহাজারি করছিলেন এক নারী। তিনি চিৎকার করে জানান, সকাল ৮টায় তিনি তাঁর অসুস্থ বাবাকে নিয়ে খুলনা যাওয়ার জন্য প্রাইভেট কারে করে শিমুলিয়া ঘাটে এসেছেন। সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্তও তিনি ফেরির নাগাল পাননি। তাই তিনি প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

আটকে পড়া পিকআপচালক রসু মিয়া জানান, তিনি তিন দিন আগে ঢাকা থেকে বাসাবাড়ির মালপত্র নিয়ে খুলনার উদ্দেশে শিমুলিয়া ঘাটে এসে আটকা পড়েছেন। কখন ফেরি পার হতে পারবেন, তা তিনি জানেন না। ভিআইপি গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি পার হতে পারছে না। পটুয়াখালী যাওয়ার উদ্দেশে ঢাকার মিরপুর থেকে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সকালে শিমুলিয়া ঘাটে এসে আটকা পড়েন আব্দুল কাইউম শেখ। প্রাইভেট কারে আসা কাইউম শেখের অভিযোগ, শুধু ভিআইপি গাড়ি ফেরি পার করা হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টা ধরে তিনি ঘাটে এলেও ফেরিতে উঠতে পারছেন না।

কী বলছে কর্তৃপক্ষ

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডাব্লিউটিসি) পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান জানান, পদ্মা সেতুর দুর্ঘটনা এড়াতে মাত্র চারটি ফেরি দিয়ে দিনের বেলায় এ নৌপথ (শিমুলিয়া-বাংলাবাজার) সচল রাখা হয়েছে। ভারি কোনো যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে না। শুধু ছোট ছোট গাড়ি পার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা দিনে-রাতে ফেরি চালাতে চাচ্ছি। এখন শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে তা সম্ভব নয়। পদ্মা সেতু এড়িয়ে শরীয়তপুরের মাঝিকান্দি ঘাট প্রস্তুত করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে পদ্মায় খননকাজও (ড্রেজিং) চলছে। আশা করছি, দুই সপ্তাহের মধ্যে শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি নৌপথ চালু করা হবে। তখন যাত্রীদের আর দুর্ভোগ পোহাতে হবে না। ’

মাওয়া ট্রাফিক জোনের টিআই (প্রশাসন) মো. জাকির হোসেন জানান, শিমুলিয়া ঘাটের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। সীমিতসংখ্যক ফেরি চলাচল করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ছুটির দিনগুলোতে একটু ভিআইপি গাড়ির চাপ থাকলেও ফেরি কম থাকায় ঘাটে গাড়ির জটলা লেগে থাকে। গতকাল প্রায় ৩০০ বিভিন্ন গাড়ি ফেরি পারের অপেক্ষায় ছিল।

ঘাটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রমত্তা পদ্মা নদী এখন একেবারেই শান্ত। তীব্র স্রোত নেই। তাই কর্তৃপক্ষ ইচ্ছা করলে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফেরির সংখ্যা বাড়াতে পারে। এতে পদ্মা সেতুর সঙ্গে ফেরির সংঘর্ষ হওয়ার তেমন আশঙ্কা নেই। ফেরির সংখ্যা বাড়ালে যাত্রী দুর্ভোগ কমত।

গত আগস্ট মাসে পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোতের কারণে পদ্মা সেতুর পিলারে কয়েকবার ধাক্কা দেয় ফেরি। এতে সেতুর নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে কর্তৃপক্ষ সেতুর নিচ দিয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়। পরে কয়েক দফা পরীক্ষামূলক ফেরি চালিয়ে সর্বশেষ ৯ নভেম্বর থেকে চারটি ফেরি দিয়ে দিনের বেলায় শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথ সচল রাখা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা