kalerkantho

সোমবার ।  ২৩ মে ২০২২ । ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২১ শাওয়াল ১৪৪৩  

পাঁচ দিনেও প্রধান আসামি অধরা

কাউন্সিলরসহ দুই খুন

কুমিল্লা সংবাদদাতা   

২৭ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ সোহেলসহ দুজনকে গুলি করে হত্যার পাঁচ দিনেও মামলার প্রধান আসামি সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি শাহ আলমকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। নাম উল্লেখ করা ১১ আসামির মধ্যে মাত্র দুই আসামি ধরা পড়েছে।

আলোচিত এ দুই খুনে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে গতকাল শুক্রবারও বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করা হয়েছে। দুপুরে নগরীর ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাথুরিয়াপাড়া জামে মসজিদের সামনে এই কর্মসূচি পালন করে এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেয়।

দুজন ছাড়া আর কোনো আসামি ধরা না পড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে গতকাল সন্ধ্যায় কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার ওসি আনওয়ারুল আজিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মামলার প্রধান আসামি শাহ আলমকে ধরতে মাঠে কাজ করছে আমাদের একাধিক ইউনিট। তাকে গ্রেপ্তারে প্রাধান্য দিয়েই তদন্ত চলছে। আশা করছি, দ্রুতই সব আসামি ধরা পড়বে। ’

মামলার বাদী, কাউন্সিলর সোহেলের ছোট ভাই সৈয়দ মোহাম্মদ রুমন বলেন, ‘মামলার প্রধান দুই আসামি শাহ আলম ও জেল সোহেলকে গ্রেপ্তার করলেই সব তথ্য বের হবে। কারণ তারাই কিলিং মিশনের নেতৃত্ব দিয়েছে। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি। ’

এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া ৯ নম্বর আসামি মো. মাসুমকে গতকাল আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। তবে আদালত পরে শুনানির জন্য রেখে মাসুমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আনওয়ারুল আজিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিক্ষোভ, মানববন্ধন : খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, কাউন্সিলর সোহেল জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। তাঁর কোনো প্রতিপক্ষ ছিল না। তিনি মাদকের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। এ জন্য ওই মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে তাঁকে খুন করেছে। খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তা না হলে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

গত সোমবার বিকেলে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সোহেল নিজ কার্যালয়ে বসে রাজনৈতিক কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করছিলেন। এ সময় চারটি মোটরসাইকেলে করে আসা অন্তত ১০ জন কালো মুখোশধারী সন্ত্রাসী তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। এতে গুলিবিদ্ধ সোহেল সঙ্গে সঙ্গেই নিজের চেয়ার থেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। গুলির আওয়াজে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীরা পাশের বউবাজার এলাকা দিকে পালিয়ে যায়। এ সময় হামলাকারীরা গুলি ছোড়ে ও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে স্থানীয় লোকজন গুলিবিদ্ধ কাউন্সিলরসহ আহতদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কাউন্সিলর সোহেল ও তাঁর সঙ্গী আওয়ামী লীগ নেতা হরিপদ সাহা মারা যান। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ আরো পাঁচজন কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।



সাতদিনের সেরা