kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি

উপজেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদকের বহিষ্কার দাবিতে অবরোধ

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২৭ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বগুড়ার শেরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব আম্বীয়ার বিরুদ্ধে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ উঠেছে। সেই সঙ্গে ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিএনপি নেতা বড় ভাই পিয়ার উদ্দিনকে চেয়ারম্যান হতে সহযোগিতা করেছেন।

এসব ঘটনার প্রতিবাদে ও আম্বীয়াকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। একই দাবিতে তাঁরা দলটির জেলা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেয়।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত শেরপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ঘিরে ঘরোয়া বৈঠকে আহসান হাবিব আম্বীয়ার গোপনে ধারণ করা বিতর্কিত বক্তব্যের একটি ভিডিও ও অডিও গতকাল সকাল থেকে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। ক্ষোভে ফেটে পড়েন দলীয় নেতাকর্মীরা। দুপুরের পর থেকে শহরের শেরপুর শহীদিয়া আলিয়া মাদরাসা মাঠে জড়ো হতে থাকেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। পরে তাঁরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বাসস্ট্যান্ডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়ক অবরোধ করে সমাবেশ করে। ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচি চলাকালে মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

আহসান হাবিব আম্বীয়ার ১৫ মিনিটের ওই অডিও রেকর্ডে বলতে শোনা যায়, ‘ইউনিয়নের নির্বাচন ঘিরে বঙ্গবন্ধুর ভ্রাম্যমাণ মাজার নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরলেও জনগণ ভোট দেবে না। দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের মাথায় কোনো বুদ্ধি নেই। এর চেয়ে বেশি বুদ্ধি-জ্ঞান আমার...রয়েছে। ’ আওয়ামী লীগের জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়েও সেখানে কটূক্তিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, আম্বীয়ার বিতর্কিত বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অবিলম্বে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে।

কর্মসূচিতে নেতৃত্বে দেওয়া আওয়ামী লীগ নেতা খলিলুর রহমান বলেন, ‘আহসান হাবিব আম্বীয়া খানপুর ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে ভোট করেছেন। নিজের বড় ভাই বিএনপি নেতাকে জেতানোর জন্য নানা কৌশল বাস্তবায়ন করেছেন। যেমন দলীয় প্রার্থীর পরিবর্তে তাঁর ভাইয়ের পক্ষে নির্বাচন না করায় আমাকে খানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে রাতের আঁধারে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ’

অভিযোগ অস্বীকার ও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব আম্বীয়া বলেন, ‘খানপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর লোকজন এই মিছিল করেছে। কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী অংশ নেননি। এ ছাড়া দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচন করায় অব্যাহতি পাওয়া নেতা খলিলুর রহমান এবং তাঁর লোকজন আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে আমার নামে মিথ্যা অডিও-ভিডিও তৈরি করে প্রচার করছেন। ’

শেরপুর টাউন পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সাম্মাক হোসেন বলেন, মিছিল শেষে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়ক অবরোধ করে সমাবেশ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সেটি করতে পারেনি। পুলিশ তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তাই তেমন কোনো যানজটের সৃষ্টি হয়নি।



সাতদিনের সেরা