kalerkantho

সোমবার ।  ২৩ মে ২০২২ । ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২১ শাওয়াল ১৪৪৩  

নির্মাণের ছয় মাসেই দেবে গেছে বিদ্যালয় ভবন

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

২৭ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নির্মাণের ছয় মাসেই দেবে গেছে বিদ্যালয় ভবন

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের বড়চেগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের মেঝে দেবে গেছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

নির্মাণের ছয় মাসের মাথায়ই দেবে গেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের বড়চেগ (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের মেঝে। যেকোনো সময় ভবনটিতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর পরও ঝুঁকি নিয়ে দাপ্তরিক কাজ সারছেন শিক্ষকরা। নির্মাণকালীন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নেয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, বড়চেগ (১) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুরনো জরাজীর্ণ ভবনের পাশে একটি নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। দোতলা ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ হয় ২০১৯ সালে। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তিন কক্ষের ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। নবনির্মিত ভবন বুঝিয়ে দেওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই কক্ষের মেঝে দেবে যেতে শুরু করে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রায় ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করার কথা থাকলেও ২০১৯ সালে কাজ সমাপ্ত হয়। কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুন্দর আলীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আদিল এন্টারপ্রাইজ কাজটি করে। নির্মাণকাজ নিম্নমানের হওয়ায় এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। নতুন ভবনের মেঝেতে ফাটল ও দেবে যাওয়ার ঘটনাটি অবগত হলেও দীর্ঘদিনেও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এই ব্যাপারে কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি।

গত বুধবার বিদ্যালয়টিতে গেলে দেখা যায়, দুই শ্রেণিকক্ষের মেঝের চারপাশে ফাটল ধরে দেবে গেছে। পিলারের চারপাশ নিচের দিকে দেবে যাওয়ায় চেয়ার, টেবিল, বেঞ্চ ও ডেস্ক রাখতে সমস্যা হচ্ছে। শুধু মেঝেতেই নয়, দেয়ালেও ফাটল ধরেছে। একইভাবে এ ভবনের ব্যবহৃত অফিস রুমের একটি কক্ষের চারপাশেও ফাটল ধরে দেবে গেছে। এর পরও ঝুঁকি নিয়ে সেখানে দাপ্তরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। বিদ্যালয়ের পুরনো জরাজীর্ণ একটি ভবনে কোনো রকমে পাঠদান করানো হচ্ছে। সেই ভবনের মেঝে দিয়েও পানি বের হচ্ছে। ফলে সঠিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হরিপদ দেবনাথ বলেন, ‘ভবনে ফাটল দেখা দেয় ২০১৯ সালের শেষ দিকে। করোনাকালীন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ক্লাস হয়নি। আর বর্তমানে কক্ষগুলো দেবে যাওয়ায় ভয়ে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে চাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। অনেকে বিদ্যালয়ে পর্যন্ত আসছে না। ফলে নতুন ভবনে এখনো কোনো ক্লাস নেওয়া হয়নি। ’

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আদিল এন্টারপ্রাইজ নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়ম করেছে। ওই ভবনে রাতের আঁধারে নিম্নমানের খোয়া ও বালু দিয়ে মেঝে ঢালাই করার সময় আপত্তি জানালেও কোনো কাজ হয়নি। ’

কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম তালুকদার বলেন, ‘আমি বিষয়টি প্রকৌশল অফিসকে জানিয়েছিলাম। তখন তারা বলেছিল দ্রুত ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু এত দিনেও ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। আমি এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছি। আশা করি দু-এক দিনের মধ্যেই সংস্কারকাজ শুরু হবে। ’

কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যালয়ের এমন অবস্থার কথা এখনো কেউ জানায়নি। এখন জানলাম। এই ব্যাপারে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’



সাতদিনের সেরা