kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

‘নৌকার প্রার্থীকে জেতাতে’

স্বতন্ত্র প্রার্থীর দুই কর্মীকে অন্য থানার হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল   

২৬ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কিশোরগঞ্জের নিকলীর দামপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে (২৮ নভেম্বর) নৌকার চেয়ারম্যান প্রার্থীকে জেতাতে কৌশল হিসেবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান দুই সমন্বয়কারীকে পরিকল্পিতভাবে আরেক উপজেলা বাজিতপুরের একটি হত্যা মামলার আসামি করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বিকেলে নিকলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে এ অভিযোগ করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন।

লিখিত অভিযোগে প্রার্থী প্রতিকার চেয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি করেছেন। আবেদনটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার, কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে পাঠানো হয়েছে।

নিকলী ইউএনও ও নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার মো. আস সাদিক কালের কণ্ঠকে জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীর অভিযোগটি হাতে পেয়েছেন। অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মামলার বিষয়ে পুলিশ বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে হত্যা মামলায় দুজনকে আসামি করার প্রতিবাদে ও মামলা থেকে অব্যাহতির দাবিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিকলীর দামপাড়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।

নির্বাচনে দামপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ঠিকাদার মো. আলী আকবর দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। অন্যদিকে মোটরসাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দামপাড়া নূরুল ইসলাম মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেন।  

বাজিতপুরের কৈলাগ ইউনিয়নে গত বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনায় পরদিন শুক্রবার হত্যা মামলাটি দায়ের হয়। এজাহারে থাকা ৩৬ নম্বর আসামি ও বাজিতপুর কলেজ ছাত্রসংসদের সাবেক জিএস বদরুল আলম বাচ্চুর বাড়ি নিকলীর মজলিশপুরে এবং ৩৭ নম্বর আসামি ঠিকাদার আলী হোসেনের বাড়ি নিকলীর দামপাড়ায়। তাঁরা সদ্যঃপ্রয়াত বিচারপতি আমির হোসেনের যথাক্রমে মামা ও ভাইপো।

বাজিতপুরে সংঘর্ষের দিন নিকলীর আসামি দুজন কোথায় ছিলেন? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে দামপাড়ার কয়েকজন ভোটার জানান, ওই দিন আলী হোসেন ও বদরুল আলম বাচ্চুকে দামপাড়াতেই দেখেছেন তাঁরা। বাচ্চু বলেন, তিনি হোসেনসহ প্রার্থীকে নিয়ে এলাকায় জনসংযোগ করেছেন। হোসেন বলেন, ‘আমরা অধ্যক্ষের ওপর থেকে সমর্থন সরিয়ে ফেললে প্রতিপক্ষের জন্য সুবিধা হয়। পুলিশি হয়রানি করে নির্বাচনের মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে রাখার অপকৌশল হিসেবেই বাচ্চু ভাই ও আমাকে হত্যা মামলার আসামি করা হয়।’

প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন জানান, দামপাড়া থেকে ২৮-৩০ কিলোমিটার দূরে ঘটা হত্যাকাণ্ডে আলী হোসেন ও বদরুল আলমের জড়িত থাকার সুযোগ বা কারণ নেই। পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্তে সেটা প্রমাণিত হবে।

নৌকার প্রার্থী মো. আলী আকবর অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, ‘আমি এটা কেন করতে যাব! কে তাদের মামলায় জড়িয়েছে তা আমি বলতে পারব না।’

১৮ নভেম্বর বাজিতপুরে দুদল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে বল্লমের আঘাতে খুন হন কৈলাগের শফিকুল ইসলাম। তাঁর ভাই তাজুল ইসলাম পরদিন ৫৫ জনের নামে যে হত্যা মামলা করেন, তাতে আসামির তালিকায় থাকা ৩৬ ও ৩৭ ক্রমিকে নিকলীর বদরুল আলম বাচ্চু ও আলী হোসেনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।

তাজুল ইসলাম জানান, নিকলীর দুই ব্যক্তি কিভাবে এ মামলার আসামি হয়েছেন, তিনি জনেন না। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ীই আসামি নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁদের দুজনকে তিনি চেনেনও না। নিরপরাধ কেউ মামলায় ফেঁসে যাক তা তিনি চান না।

বাজিতপুর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, পূর্বশত্রুতাবশত বাদী নিকলীর দুজনকে আসামি করে থাকতে পারেন। তদন্তে তাঁরা নিরপরাধ প্রমাণিত হলে হত্যা মামলা থেকে তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা