kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২ ডিসেম্বর ২০২১। ২৬ রবিউস সানি ১৪৪৩

দুই বছরে কাজ মাত্র ৫ শতাংশ

আলোকিত পল্লী সড়কবাতি প্রকল্প

তামজিদ হাসান তুরাগ   

২৬ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পল্লী এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনতে নেওয়া হয় ‘আলোকিত পল্লী সড়কবাতি প্রকল্প’। প্রকল্পটি নেওয়ার দুই বছর তিন মাস পার হলেও এখনো সোলার স্ট্রিট লাইটই কিনতে পারেনি বাস্তবায়নকারী সংস্থা পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)। ফলে আলো ছড়ানোর অভিপ্রায় নিয়ে হাতে নেওয়া সরকারি প্রকল্পটি ঢাকা পড়েছে আঁধারে।

মাঠ পর্যায়ের কাজ এখনো শুরু না হওয়ায় প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ৫ শতাংশ। আর্থিক অগ্রগতি ০.২১ শতাংশ, টাকার অঙ্কে যা ২১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। গত সেপ্টেম্বরে দেওয়া পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়। অনুমোদনের সময় প্রকল্পটি ২০১৯ সালের জুলাইয়ে শুরু করে ২০২২ সালের জুনে বাস্তবায়নের কথা বলা হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৪৮ কোটি ৪৬ লাখ ৯১ হাজার টাকা। দেশের ১২ জেলার ১৭ উপজেলার ১৩৩টি ইউনিয়নে প্রকল্পটির কাজ হওয়ার কথা থাকলেও আদতে বাস্তবায়নের হার তলানিতে।

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) বলা হয়েছিল, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা গেলে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা আলোকিত করাসহ নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি অন্ধকারে ডুবে থাকা উপজেলাগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশ কমবে। প্রকল্পের মূল কাজের মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ছয় হাজার ১৫০টি সৌরবিদ্যুতায়িত সড়কবাতি লাগানো। এ জন্য প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ৮৫০ ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথাও ডিপিপিতে বলা আছে।

এক বছর পর কেনাকাটা : প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালের ৩০ জুনের মধ্যে আটটি প্যাকেজে পণ্য কেনার কথা থাকলেও ওই সময়ে কেনা হয়েছে মাত্র চারটি প্যাকেজের পণ্য। এসব পণ্য কেনা হয়েছে ২০২১ সালের জুনে। কেনা পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে লেজার প্রিন্টার ও অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার ১৭টি, ডেস্কটপ কম্পিউটার ১৭টি, ফটোকপি মেশিন একটি এবং অফিস আলমারি ১৭টি।

আইএমইডি আপত্তি তুলে প্রতিবেদনে বলেছে, এসব পণ্য কেনা হয়েছে এক বছর পর, এ ছাড়া তালিকায় কোনো পণ্যের নামও উল্লেখ নেই। এর বাইরে এখনো কেনা হয়নি প্রকল্পে ১৭টি মোটরসাইকেল, ছয় হাজার ১৫০টি সোলার স্ট্রিট লাইট, অফিস আসবাব ১৯টি।

আইএমইডির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ডিপিপিতে উল্লিখিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী কোনো কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। কর্মপরিকল্পনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে প্রকল্প এলাকায় প্রতি মাসে ৩৫৫টি করে সোলার স্ট্রিট লাইট লাগানোর কথা বলা হয়েছে, কিন্তু গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্যাকেজ-৫-এর আওতায় সবে তিন হাজার লাইট কেনার মূল্যায়ন কাজ চলছে। ফলে অক্টোবর থেকে লাইট লাগানোর কাজে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আরেকটি প্যাকেজে তিন হাজার ১৫০টি সোলার লাইট কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই কেনাকাটার দরপত্র আহবান করা হবে আগামী ১ জানুয়ারি।

প্রকল্পটিকে ধীরগতি উল্লেখ করে আইএমইডি তাদের প্রতিবেদনে বলছে, বাকি সময়ে কর্মপরিকল্পনার আলোকে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিটকে (পিএমইউ) আরো কার্যকর হতে হবে। বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে করতে হবে নিবিড় তদারকি। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে স্ট্রিট লাইট ও আনুষঙ্গিক পণ্যের মান।

কেন এই প্রকল্পের ধীরগতি—এমন প্রশ্নের জবাবে আইএমইডি সেক্টর ৮-এর মূল্যায়ন কর্মকর্তা মো. হেলাল খান বলেন, ‘প্রকল্পটির ধীরগতির অন্যতম কারণ করোনার প্রকোপ। এর পরও ৫ শতাংশ অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিদর্শনের পর প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জবাব দিয়েছে, প্রথম লটে যে লাইট কেনার কথা ছিল সেটার মূল্যায়ন কাজ চলছে।’ হেলাল খান মনে করেন, ঠিক সময়ে কাজ শেষ না হলেও যদি এক বছর মেয়াদ বাড়ানো যায় তাহলে প্রকল্পের কাজ বর্ধিত সময়ে শেষ হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আইএমইডির এক কর্মকর্তা বলেন, করোনার মধ্যেও মেগাপ্রকল্পগুলোর অগ্রগতি সেই অর্থে কমেনি। পুরোদমে মেগাপ্রকল্পগুলোর কাজ করা গেছে। পদ্মা সেতু ও মেট্রো রেলের কাজ খুব বেশি দিন থমকে থাকেনি। এই প্রকল্পের ধীরগতির পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে।

প্রকল্পের ধীরগতির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (অর্থ ও পরিকল্পনা) মুহিউদ্দিন আহমদ পান্নু বলেন, ‘প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছে করোনা শুরুর কিছুদিন আগে। এ কারণে প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন আমরা পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছি। মাঠ পর্যায়ের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। আশা করি, আমরা ঠিক সময়ে কাজ শেষ করতে পারব।’



সাতদিনের সেরা