kalerkantho

বুধবার । ১২ মাঘ ১৪২৮। ২৬ জানুয়ারি ২০২২। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সিইসি বললেন

পাহারা দিয়ে সহিংসতা বন্ধ করা অসম্ভব

বিশেষ প্রতিনিধি   

২৫ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ডাকা বৈঠকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের কেউ কেউ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না। ভোটকেন্দ্রে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটলেই অনেক প্রিজাইডিং ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রিজাইডিং অফিসার পুলিশকে না জানিয়েই কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যান। এতে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়।

বৈঠকের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নুরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করব নির্বাচনী সহিংসতা রোধ করতে।

বিজ্ঞাপন

তবে একটাও সহিংস ঘটনা হবে না, মারামারি হবে না—এমন নিশ্চয়তা আমরা দিতে পারি না। আমরা চেষ্টা করব এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে। ’

গতকাল বুধবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সিইসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব, ইসি সচিব, ইসির অতিরিক্ত সচিব, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, ভারপ্রাপ্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, আনসার ও ভিডিপি, ডিজিএফআই ও এনএসআইয়ের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে শেষে সিইসি ইউপি নির্বাচনে সংহিসতা রোধে পদক্ষেপ সম্পর্কে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সংসদ সদস্যসহ সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হচ্ছে। এমপি-মন্ত্রীদের বেশির ভাগই আচরণবিধি অনুসরণ করেন। দুই-চারজন মানছেন না বলে অভিযোগ এসেছে। তাঁদের চিঠিও দেওয়া হয়েছে এলাকা ছাড়ার জন্যে। ’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি আরো বলেন, প্রথম দুই ধাপের ভোটে সহিংসতা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পাড়া-মহল্লায় পাহারা দিয়ে সহিংসতা বন্ধ করা অসম্ভব। তাই নির্বাচনী পরিবেশ ভালো রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। বৈঠকে আচরণবিধি প্রতিপালনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সহিংসতা ঘটতে পারে এমন পকেটগুলো চিহ্নিত করে আগাম গোয়েন্দা তথ্য নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নজরদারি বাড়ানো ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যও বলা হয়েছে।

সিইসি বলেন, ‘আমরা দেখেছি যে কোথাও কোথাও মারামারি হয়েছে, খুন-জখম হয়েছে। তার পরও স্থানীয় প্রশাসন পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে নির্বাচন চালু রেখেছে এবং সেই নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট সম্পন্ন হয়েছে। ’

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়,  ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের কেউ কেউ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন না। ভোটকেন্দ্রে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটলেই অনেক প্রিজাইডিং ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রিজাইডিং অফিসার পুলিশকে না জানিয়ে কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যান। এতে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়। ওই অবস্থায় ভোটগ্রহণ বন্ধ করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। এ অবস্থায় তাদের সুপারিশ, গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী পূর্বঅভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের নির্বাচনের দায়িত্ব দিতে হবে।

জানা যায়, এ ছাড়া বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে নির্বাচনে পক্ষপাতের অভিযোগ পেলে ইউএনও, ওসিসহ যেকোনো পর্যায়ের কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হবে।

বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, কমিশনের নির্দেশনা পেলে যেকোনো পর্যায়ের কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে তারা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চায়।



সাতদিনের সেরা