kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

খেলাপি ঋণ এক লাখ কোটি টাকা ছাড়াল

চলতি বছরের ৯ মাসে বেড়েছে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৪ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিভিন্ন ছাড়ের পরও ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ আবার বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ এক হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে বেড়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। আর চলতি বছরের ৯ মাসে বেড়েছে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা।

বিজ্ঞাপন

 

করোনাভাইরাসের কারণে ২০২০ সালজুড়েই ঋণ পরিশোধে বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে ওই সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করেও কেউ খেলাপি হননি। এখন এই বিশেষ সুবিধা বহাল না রাখলেও ঋণ পরিশোধে কিছুটা ছাড় দিয়ে রেখেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর পরও ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ আবার বাড়ছে।  

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোর বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেই। সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ফলে ব্যাংকগুলোর মধ্যে এমন ধারণা হয়েছে যে এ ধরনের সুবিধা সব সময়ই তাদের দেওয়া হবে; যার কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে। তাই খেলাপি ঋণ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শক্ত হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, কভিডের কারণে ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত খেলাপি একাকার হয়ে গেছে। এখন তাদের আলাদা করে চিহ্নিত করার সময় এসেছে। এখন যে পরিমাণ দেখা যাচ্ছে, এটা খেলাপির প্রকৃত চিত্র নয়। ছাড় ও সুবিধা তুলে নিলে খেলাপির অঙ্ক আরো বেড়ে যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে এক লাখ এক হাজার ১৫০ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮.১২ শতাংশ। গত জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল ১২ লাখ ১৩ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা।

এর মধ্যে খেলাপি ছিল ৯৯ হাজার ২০৫ কোটি টাকা বা ৮.১৮ শতাংশ। এর মানে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় এক হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা। আর চলতি বছরের ৯ মাসের হিসাবে খেলাপি ঋণ বেড়েছে প্রায় ১২ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ৮৮ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা বা ৭.৬৬ শতাংশ। এর মধ্যে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত—তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছিল তিন হাজার ৮৯৯ কোটি টাকা। আর জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত্ম খেলাপি ঋণ বেড়েছিল ছয় হাজার ৮০২ কোটি টাকা। যদিও গত এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকগুলোয় খেলাপি ঋণ বেড়েছে পাঁচ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা। গত বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৪ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা বা ৮.৮৮ শতাংশ।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘খেলাপি ব্যক্তিরা বারবার ঋণ পরিশোধের সময় পান, পুনঃতফসিলের সুযোগ পান। মামলা করে ঝুলিয়ে রাখেন। বেশি সমস্যা হলে হাইকোর্টে গিয়ে রিট করেন। এভাবেই বছরের পর বছর ঋণ পরিশোধ না করে পার পেয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। এসব দীর্ঘসূত্রতার কারণে খেলাপি হওয়া আমাদের সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। ’

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ১৬ কোটি টাকা বা ২০.০৭ শতাংশ। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ছিল ৪২ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলো সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণ ৫০ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৫.৪৭ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ ছিল ৪০ হাজার ৩৬১ কোটি টাকা বা ৪.৬৬ শতাংশ। এ সময়ে বিদেশি ব্যাংকের খেলাপি হয়েছে দুই হাজার ৬৯২ কোটি টাকা বা ৪.১২ শতাংশ। আর বিশেষায়িত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ হয়েছে তিন হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা বা ১১.৪৪ শতাংশ।



সাতদিনের সেরা