kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

জেকা বাজার বন্ধ ঘোষণা

রাজবাড়ীতে ২৫ হাজার গ্রাহকের ৫০ কোটি টাকা পাওয়া অনিশ্চিত

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

২৪ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাজবাড়ীর এমএলএম কম্পানি জেকা বাজার লিমিটেড বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ২৫ হাজার গ্রাহক তাদের পাওনা ৫০ কোটিরও বেশি টাকা কিভাবে ফেরত পাবে, সেই নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারেনি।

গত সোমবার বিকেলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শরিফুল ইসলাম এক অভিযান চালান। শহরের পান্না চত্বরের নান্নু টাওয়ারে জেকা বাজারের সিলগালা কার্যালয়ে ডাব, সানসিল্ক শ্যাম্পু, গ্লাস ও টয়লেট ক্লিনারসহ সব ভেজাল পণ্য জব্দ করেন।

বিজ্ঞাপন

এগুলো শ্রীপুরে নিয়ে ধ্বংস করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেকা বাজারের পরিচালক সাইদুল বাশার, রাশেদুল ইসলামসহ আরো অনেকে।

শরিফুল ইসলাম জানান, এখন থেকে জেকা বাজার নামে কোনো ব্যবসা পরিচালনা করা যাবে না। তবে যেসব বৈধ পণ্য আছে, সেগুলো তাঁরা বেচতে পারবেন। পরবর্তী সময়ে কোথাও কোনোভাবে যদি তারা পুনরায় ব্যবসা চালানোর চেষ্টা করে তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গ্রাহকদের টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের যে বৈধ ব্যবসা আছে সেগুলোর আয়ের মাধ্যমে তারা গ্রাহকদের কিছু টাকা ফেরত দিতে পারবে। ’

পরিচালকরা জানান, বর্তমানে তাঁদের যে সম্পদ আছে, পর্যালোচনা করে ধীরে ধীরে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেবেন। তাঁদের সম্পদের মধ্যে মোটরসাইকেল, জমি, ইলেকট্রনিক ও ফ্যাব্রিক্স পণ্য রয়েছে।

এদিকে ১৫ কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে পালানোর চেষ্টার অভিযোগে জেকা বাজারের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত ১৬ নভেম্বর রাজবাড়ী থানায় এই মামলা করেন প্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মাদ ইশানুর রহমান (২৫)।

আসামিরা হলেন জেকা বাজারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাবিউল্লাহ খান জাবের (২২), তাঁর বাবা কালুখালী উপজেলার গঙ্গানন্দপুর গ্রামের শুকুর আলী এবং একই গ্রামের আকবর আলী শেখের ছেলে শুকুর আলী (৬০), ঢাকার আশুলিয়ার জেবরা গ্রামের মোতালের প্রামাণিকের ছেলে মিলন প্রামানিক (৩৫) ও বালিয়াকান্দি উপজেলার শামুকখোলার সেকেন আলীর ছেলে নায়েব আলী (৪০)।

ইশানুর জানান, তাঁরা জেকা বাজারের ব্যাবসায়িক অংশীদার। গত ১১ মার্চ রেজিস্ট্রেশন নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। আসামিরা ব্যবসার চলমান ও জমাকৃত ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গত ৭ নভেম্বর সকাল ৮টার পর থেকে আত্মগোপন করেন। তাঁদের ব্যবহৃত মুঠোফোন বন্ধ, কোনোভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, অভিযুক্তরা টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করছেন। তা ছাড়া জাবিউল্লাহ প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় ব্যবসা পরিচালনা করা অসম্ভব। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে কয়েক হাজার বিনিয়োগকারী। রাজবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ সাহাদাত হোসেন জানান, আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।



সাতদিনের সেরা