kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ আগস্ট ২০২২ । ১ ভাদ্র ১৪২৯ । ১৭ মহররম ১৪৪৪

চমেকে সংঘাতের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন

ছাত্রলীগের দুই পক্ষ দায়ী হলেও শাস্তির সুপারিশ নেই

কলেজ খোলা নিয়ে আজ একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২৩ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি গতকাল সোমবার প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গতকাল দুপুরে কলেজ অধ্যক্ষের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদন পাওয়ার পরই আজ মঙ্গলবার সকালে একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চমেকের কয়েকজন শিক্ষক জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বন্ধ থাকা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ খোলা নিয়ে আজ একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক হবে।

বিজ্ঞাপন

বৈঠকে প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনার পর কলেজ খোলা হবে কি না, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

তদন্ত কমিটির প্রধান চমেক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান খান গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, আজকে (গতকাল) দুপুর ২টার দিকে অধ্যক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে কী আছে, তা নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি তিনি। অন্যদিকে তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে গতকাল বিকেলে চমেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সাহেনা আক্তারকে কয়েকবার মোবাইলে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

তদন্ত কমিটিতে থাকা একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে জানান, ঘটনায় জড়িত দুই পক্ষই (ছাত্রলীগ) অভিযুক্ত। তাদের কারণে ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে। এর দায় তারা এড়াতে পারে না। তদন্ত কমিটির সামনে সশরীরে এসেছেন অভিযুক্তদের মাত্র কয়েকজন। ১৪-১৫ জন মেইলে তাঁদের বক্তব্য পাঠিয়েছেন। আবার অনেকে সাড়া দেননি। যাঁদের বক্তব্য পেয়েছি, তা দিয়েই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির অন্তত তিনজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে জানান, প্রতিবেদনে ছাত্রলীগের একক কিংবা কয়েকজনকে আলাদাভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি। ঘটনার জন্য দুই পক্ষই দায়ী। তবে কাউকে শাস্তির জন্য সুপারিশ করা হয়নি। আর কলেজ খোলার বিষয়টি তদন্ত কমিটির এখতিয়ারে ছিল না। তাই এ ব্যাপারে কমিটি কোনো মতামত দেয়নি। তবে সামনে মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা রয়েছে। তাই কলেজ খুলে দেওয়ার বিকল্প নেই।

গত ২৯ অক্টোবর রাতে চমেক প্রধান ছাত্রাবাসে এবং পরদিন ৩০ অক্টোবর সকালে চমেক ক্যাম্পাস এবং প্রধান ফটকের সামনের সড়কে ছাত্রলীগের বিবদমান দুই পক্ষের সংঘর্ষ হয়। ৩০ অক্টোবর সকাল ১০টায় ছাত্রলীগের এক পক্ষের নির্মম হামলায় অন্য পক্ষের কর্মী এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহাদি আকিব মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে অস্ত্রোপচারের পর ১৯ দিন হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ওই দিনই একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নিয়ে পরদিন থেকে চমেক অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেই থেকে একাডেমিকের পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে হাসপাতাল ও কলেজের ক্লিনিক্যাল কার্যক্রমগুলো।



সাতদিনের সেরা