kalerkantho

বৃহস্পতিবার ।  ১৯ মে ২০২২ । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৭ শাওয়াল ১৪৪৩  

গোপালগঞ্জে আহত ২৫

বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৩ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্ববিদ্যালয়-মেডিক্যাল শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

যৌন হয়রানি, হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা গতকাল হাসপাতালের সামনে মানববন্ধন করেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) এবং শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গত রবিবার রাতে সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

এরপর গতকাল সোমবার দুপুরে যৌন হয়রানি, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ এনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন গোপালগঞ্জের শেখ সায়েরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থীরা।

মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত লেখা প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। তাঁরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে স্লোগান দেন এবং জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

পরে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. হুমায়ুন কবির ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ একাত্মতা প্রকাশ করেন।

ক্যাম্পাস ও থানা সূত্র জানায়, গত রবিবার রাতে বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা মেডিক্যাল কলেজে ক্যাম্পাসের মসজিদের সামনের রাস্তায় ক্রিকেট খেলছিলেন। মেডিক্যাল শিক্ষার্থীরা সেখানে খেলতে নিষেধ করায় উভয় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উভয় প্রতিষ্ঠানের ছাত্ররা সংঘঠিত হয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে লিপ্ত হন। থেমে থেমে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ। এতে মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে রূপ নেয়। এ সময় অধ্যক্ষের বাসভবন, মূল ফটকসহ বিভিন্ন ভবনের থাই গ্লাস ভাঙচুর করা হয়। ইটের আঘাতে ২৫ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বশেমুরবিপ্রবির প্রক্টর ড. মো. রাজিউর রহমান, সদর থানার পরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম, পরিদর্শক (তদন্ত) শীতল চন্দ্র পালসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য এবং এক সাংবাদিক। গুরুতর আহত চার ছাত্রকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুই ছাত্রকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শীতল চন্দ্র পাল জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে ১০ রাউন্ড শটগানের গুলি ও তিন রাউন্ড কাঁদানে গ্যাস ছুুড়ে রাত ১২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশি পাহারা বসানো হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো পক্ষ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আমাদের বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি জানান, রাত ৮টায় মেডিক্যাল ক্যাম্পাসের ভেতরের মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্রিকেট খেলছিলেন। এতে মেডিক্যালের অধ্যক্ষ বাধা দেন। ছাত্ররা অভিযোগ করেন, অধ্যক্ষ বকাবকি করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ আনেন। শিক্ষার্থীরা পরে না খেলার কথা বলেন এবং মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ মিথ্যা,  ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। ঘটনার এক পর্যায়ে মেডিক্যাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। গতকাল সোমবার দিনভর মেডিক্যাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। একই সঙ্গে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।



সাতদিনের সেরা