kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

খাদ্যশস্য ও ভোজ্য তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন

দুর্যোগে অচল কানাডার বৃহত্তম বন্দর

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খাদ্যশস্য ও ভোজ্য তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ খাদ্যশস্য রপ্তানিকারক দেশ কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশে শতাব্দীর ভয়াবহতম ঝড় দেশটির বৃহত্তম ভ্যাংকুভার বন্দরকে অচল করে দিয়েছে। গত সপ্তাহের প্রবল বর্ষণ ও ভূমিধস বন্দরের সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রপ্তানি পণ্যজটের কারণে এরই মধ্যে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা চাপে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভ্যাংকুভারের পরিস্থিতি গম ও ভোজ্য তেল রপ্তানি বিঘ্নিত করার মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।

বিজ্ঞাপন

কানাডার অর্ধেক পণ্যই রপ্তানি হয় ভ্যাংকুভার বন্দর দিয়ে। এটি উত্তর আমেরিকার তৃতীয় বৃহত্তম বন্দর। রেল ও প্রধান প্রধান সড়কপথ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশটির সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, এশিয়ার বাজারে পণ্য রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ দ্বার ভ্যাংকুভার।

বিসি ট্র্যাকিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভ আরলে বলেন, ‘ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কনটেইনার পরিবহন হয় রেলপথে। বন্যায় রেলপথ ডুবে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। আমরা বলতে পারছি না, এ সংকট কত দিন পর্যন্ত এবং কী মাত্রায় থাকবে। ’

ডেভ আরলে আরো বলেন, ১৯ নভেম্বর থেকে ১০টি কনটেইনার জাহাজ, ৩৭টি ড্রাই বাল্ক ক্যারিয়ার এবং দুটি ট্যাংকার ভ্যাংকুভার বন্দরের টার্মিনালে নোঙর করার জন্য অপেক্ষা করছে। প্রায় ২০টি জাহাজ পণ্য সরবরাহের জন্য অপেক্ষা করছে। আটকা পড়েছে দুই লাখ টন খাদ্যশস্য।

ওয়েস্টার্ন গ্রেইন এলিভেটর অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ওয়েড সবকোউইচ বলেন, অবস্থা এতটাই খারাপ যে অনেক রপ্তানিকারক সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে পারবে না। তারা ফোর্স ম্যাজুর (দুর্যোগে চুক্তি না মানার সুযোগ) ঘোষণা করতে বাধ্য হবে। শিল্প গ্রুপ পালস কানাডার প্রেসিডেন্ট গ্রেগ চেরেউইক বলেন, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রেললাইন স্বাভাবিক করা যাবে; কিন্তু পণ্যের যে জট তৈরি হয়েছে তা কয়েক মাস থেকে যাবে।

কোরাম করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট মার্ক হেমস বলেন, বন্দরে যে খাদ্যশস্য আছে তা দিয়ে কয়েক দিন বা এক সপ্তাহ রপ্তানি চলবে। এরপর শস্যের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, এই বন্দর চালু হতে কয়েক দিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত লেগে যাবে।

ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের কর্তৃপক্ষ সংকট মোকাবেলার জন্য লোকজনের চলাচলের ওপর বিধি-নিষেধ আরোপ করছে। প্রতিবারে ৩০ লিটারের বেশি পেট্রল না কেনার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে। সূত্র : ব্লুমবার্গ ও বিবিসি।



সাতদিনের সেরা