kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

কারাবন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পাবেন

তৈরি করা হবে টেলিফোন বুথ

ওমর ফারুক   

২০ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভিডিও কলে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন কারাবন্দিরা। এ জন্য দেশের সব কারাগারে তৈরি করা হবে টেলিফোন বুথ। রিচার্জ কার্ড ব্যবহার করে ওই বুথ থেকে কারাবন্দিরা তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। এসব বুথ তৈরিতে সহযোগিতা দিতে সরকারের সঙ্গে চুক্তি করবে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড।

বিজ্ঞাপন

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও টেলিটক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, স্বজনদের সঙ্গে কারাবন্দিদের সাক্ষাতের সুযোগ করে দিতে প্রযুক্তি ব্যবহারের এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নিরাপত্তা জোরদারে কারাগারগুলোয় অনেক আগেই বসানো হয়েছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। এবার ভিডিও কলে কথা বলার সুযোগ পেলে একজন বন্দি ও তাঁর স্বজন মানসিকভাবে স্বস্তি পাবেন। দূরদূরান্ত থেকে স্বজনদের অর্থ, শ্রম ও সময় ব্যয় করে কারাগারে যেতে হবে না। কারা কর্তৃপক্ষও স্বজনদের সঙ্গে কারাবন্দিদের দেখা করানোর ঝামেলা থেকে রেহাই পাবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারাগারগুলোয় মোবাইল ফোনে অবৈধভাবে বন্দিদের তাঁদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দিয়ে এক শ্রেণির অসাধু কারা কর্মকর্তা-কর্মচারী লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কিছুদিন আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়া আবু মজুমদার নামের এক ব্যক্তি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে গিয়েছিলাম। সেখানে ১০ দিনের মতো ছিলাম। টাকা দিয়ে প্রতিদিন সেখান থেকে মোবাইল ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। প্রতি মিনিটের জন্য ২০ থেকে ৩০ টাকা দিতে হতো। ’

বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, কারাগারে মোবাইল ফোনে দুর্নীতিটা অনেক বেশি। এসব কারণেই ফোন বুথের ব্যবস্থা করে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহারে দুর্নীতিও কমবে।

 

টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কথাবার্তা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিস্টেমটা দেখানো হয়েছে। কাজটা এগোচ্ছে। আমরা সিস্টেমটা পরিচালনা করব। মনিটর করবে কারা কর্তৃপক্ষ। ’

সূত্র জানায়, সরকারের সঙ্গে টেলিটকের চুক্তির পর দেশের সব কারাগারে টাকার বিনিময়ে বন্দিদের রিচার্জ কার্ড দেওয়া হবে। মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বন্দিরা তা ব্যবহার করতে পারবেন। আর বন্দিদের কাছে টাকা না থাকলে তাঁদের স্বজনরা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে রিচার্জ করে দিতে পারবেন।

নির্দিষ্ট দিনে বুথে গিয়ে বন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন। বন্দি জানতে পারবেন তাঁর রিচার্জ কার্ডে কত টাকা জমা রয়েছে, আবার কবে তিনি কথা বলতে পারবেন। আবশ্য কোনো বন্দি যখন ভিডিও কলে কথা বলবেন তখন সেটি নজরদারি করা হবে। প্রতিবার নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কথা বলার সুযোগ পাবেন তাঁরা। নির্ধারিত সময় শেষ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফোন অফ হয়ে যাবে।

টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘সপ্তাহে একজন বন্দি কয়বার, কত সময় কথা বলতে পারবেন কারা কর্তৃপক্ষ সেটি আমাদের জানানোর পর সফটওয়্যারে সেট করে দেওয়া হবে। এই সিস্টেমের মাধ্যমে কোনো বন্দি কার সঙ্গে কী কথা বলছেন সব রেকর্ড থাকবে। ’

করোনা শুরুর পর স্বজনদের সঙ্গে কারাবন্দিদের সাক্ষাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই সময়টায় মানসিক সংকটে পড়েন কারাবন্দিরা। পরে তাঁদের সপ্তাহে এক দিন মোবাইল ফোনে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দিলে সংকট কেটে যায়। ভিডিও কলে কথা বলার সিস্টেমটা চালু করা গেলে আরো ভালো ফল পাওয়া যাবে। সিস্টেমটি চালু করা গেলে কারা কর্তৃপক্ষ, বন্দি, স্বজন সব পক্ষের উপকার হবে।



সাতদিনের সেরা