kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

ভুয়া কার্যাদেশ দেখিয়ে প্রতারণার নয়া কৌশল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভুয়া কার্যাদেশ দেখিয়ে প্রতারণার নয়া কৌশল

ব্যবসার নামে ভুয়া কার্যাদেশ দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর মামলা দিয়ে হয়রানি করা একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনশ্রী ও বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের হোতা শামীম ভুইয়াসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে হাতিরঝিল থানা পুলিশ। অন্য আসামিরা হলেন শামীমের স্ত্রী সালমা ভূঁইয়া, এস এম আনিসুর রহমান, সালাউদ্দিন ও নাসির উদ্দিন।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, শামীম ভুইয়ার বিরুদ্ধে থানা ও আদালতে ২২টি প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে চারটি মামলায় চার্জশিট হয়েছে। দুটি মামলা আদালতে বিচারাধীন। তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে। বৃহস্পতিবার হাতিরঝিল থানায় আরেকটি মামলা করা হয়েছে। সেই মামলায় পাঁচজনকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্ত শামীম বিভিন্ন পেশায় যুক্ত ব্যক্তিদের ব্যবসার নামে ভুয়া কার্যাদেশসহ জাল নথিপত্র দেখিয়ে টাকা নিতেন। পরে অংশীদাররা টাকা চাইলে জাল নথিপত্রের মাধ্যমে মামলা করে তাঁদের হয়রানি করতেন। টাকা দেওয়ার কথা বলে বাসায় ডেকে অচেতন করে নারী সহযোগীদের সঙ্গে আপত্তিকর ডিডিও করে জিম্মি করার অভিযোগও পাওয়া গেছে তাঁর বিরুদ্ধে। এভাবে অন্তত ৯ জন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উল্টো তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করে হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।  

পুলিশের তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) হাফিজ আল ফারুক বলেন, চক্রটির বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের একজন এ কে এম শিহাব উদ্দিন জানান, ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানের গাউন ও ব্যাগ সরবরাহ করা হবে বলে জানান ইসমাইল ট্রেডার্স লিমিটেডের পরিচালক শামীম ভুঁইয়া। শিহাব নিজেও ওই প্রতিষ্ঠানের অংশীদার। কাজটি করতে এক কোটি ১০ লাখ টাকা দিতে বলেন। হোয়াটসঅ্যাপে তাঁকে কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের সঙ্গে ছবি ও গাউনের নমুনা পাঠান শামীম। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাডে পরিচালক সেলিম খান স্বাক্ষরিত দুটি কার্যাদেশও দেখানো হয়। একটি ইসমাইল ট্রেডার্স লিমিটেডের এবং আরেকটি জেড টেকনোলজির নামে। লাভের আশায় ঋণ করে এক কোটি ১০ লাখ টাকা শামীমকে দেন তিনি। একইভাবে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের কার্যাদেশ পাওয়ার তথ্যও দেন শামীম। এ কাজ করতে আরো ২০ লাখ টাকা নেন শামীম। ২০২০ সালের ১ মার্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজের ৫০ লাখ টাকার বিল পাওয়া গেছে জানিয়ে জেড টেকনোলজির অ্যাকাউন্টে জমা দেন। আরেকটি কাজের কার্যাদেশ দেখিয়ে ওই টাকা আবার নিয়ে নেন শামীম। এরপর ১২ কোটি টাকার বিল বকেয়া দাবি করলেও ইসমাইল ট্রেডার্স লিমিটেড বা অংশীদারকে আর কোনো টাকা দেননি শামীম। সন্দেহ হলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে শিহাব জানতে পারেন, সমাবর্তন হয়েছে ঠিকই, তবে সেই কাজ ইসমাইল ট্রেডার্স কিংবা জেড টেকনোলজি নামের কোনো প্রতিষ্ঠান পায়নি। এভাবে ভুয়া কার্যাদেশ, নথিপত্র ও চেকে জাল স্বাক্ষর দিয়ে সাত কোটি ৯০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন শামীম।

একইভাবে জালিয়াতির শিকার হয়েছেন আরো অন্তত ৯ জন ব্যবসায়ী। তাঁদের দুজন শামীমের মামলায় জেলও খেটেছেন। ভুক্তভোগীরা ২২টি মামলা করার পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তর ও র‌্যাব সদর দপ্তরে শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

জানতে চাইলে সিআইডির পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাওসার আলী সরদার বলেন, ‘শামীমের বিরুদ্ধে অনেক প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এগুলো আমরা যাচাই করছি। ’

একটি মামলার তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে শামীম জাল নথিপত্র উপস্থাপন করলে তা ভুয়া বলে ধরা পড়ে। পিবিআইয়ের এসআই মো. সাদেক বলেন, ‘আমরা একটা মামলা তদন্ত করেছি। তাতে দেখা গেছে, চার লাখ টাকার চেক ৪০ লাখ টাকা করার জালিয়াতি করেছে শামীম। ’



সাতদিনের সেরা