kalerkantho

সোমবার । ১৪ মাঘ ১৪২৮। ১৭ জানুয়ারি ২০২২। ১৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ট্যুর অপারেটরদের নিবন্ধন করতে হবে

সংসদে বিল পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ট্যুর অপারেটরগুলোর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করতে জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড (নিবন্ধন ও পরিচালনা) বিল-২০২১’ পাস হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী এ প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠ ভোটে পাস হয়।

বিলে বলা হয়েছে, কোনো ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড পরিচালনার জন্য সরকারের নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ থেকে সনদ নিতে হবে। আইনটি কার্যকর হওয়ার তিন মাসের মধ্যে বিদ্যমান ট্যুর অপারেটরগুলোকে নিবন্ধন সনদ নিতে হবে। বিলে অনলাইন ট্যুর অপারেটরদেরও এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

অধিবেশনে বিলের ওপর দেওয়া জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সংসদ সদস্যরা। জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী ও বিএনপির রুমিন ফারহানা বিলে উল্লেখিত ‘মোবাইল কোর্টে বিচারের’ বিরোধিতা করেন। তাঁরা পর্যটন শিল্পের বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, দেশের পর্যটনশিল্প বিকাশের লক্ষ্যে সুপরিকল্পিতভাবে ট্যুর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডের কার্যক্রম আইনের আওতায় পরিচালনা এবং পর্যটকদের স্বার্থ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে আইন প্রণয়ন প্রয়োজন। আইনটি কার্যকর হলে পর্যটকদের স্বার্থ সংরক্ষণসহ পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডের কার্যক্রম সুষ্ঠু সুচারুভাবে আইনের আওতায় পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে।

বিলে বলা হয়েছে, নিবন্ধন সনদ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান পর্যটকদের জন্য ভ্রমণ সেবা সংশ্লিষ্ট আবাসন, আহার বা আপ্যায়ন, পরিবহন, পর্যটন আকর্ষণ সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন, পরিভ্রমণ সেবা বা অন্যান্য পর্যটন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করে দলভিত্তিক বা একক ট্যুর আয়োজন ও পরিচালনা ও ট্যুর গাইড হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবে না। বিদেশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডের কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে সরকারের অনুমতি নিতে হবে।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনের বিধান লঙ্ঘন করলে তার জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের জেল ও দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান করা হয়েছে। এই আইনের অপরাধ মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বিচার করা যাবে।

আরো দুটি বিল উত্থাপন

অধিবেশনে দুটি বিল উত্থাপন করা হয়। এগুলো হচ্ছে—‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিল-২০২১’ এবং ‘বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বিল-২০২১’।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে পিরোজপুরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিল-২০২১’ উত্থাপন করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। বিলটি উত্থাপনের পর তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

‘বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর বিল-২০২১’ উত্থাপন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।



সাতদিনের সেরা