kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

এমসি-১২ নিয়ে সিপিডির ওয়েবিনার

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে প্রস্তুতি নেওয়ার আহবান

কৌশলী না হলে বিশ্ববাজারে ঢুকতে ১২% শুল্কই দিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



২০২৬ সালের পর বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) আওতায় থাকবে না। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ থাকবে। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে পণ্য রপ্তানি শুল্ক ও কোটামুক্ত থাকবে না। এ সময়ে বাংলাদেশের প্রস্তুতি না থাকলে ১২ শতাংশ শুল্ক দিয়ে বিশ্ববাজারে ঢুকতে হবে।

বিজ্ঞাপন

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কিভাবে সহায়তা পাওয়া যায়, সে বিষয় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডাব্লিউটিও) আসন্ন ১২তম মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে (এমসি-১২) তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘আসন্ন ১২ মিনিস্টারিয়াল কনফারেন্স; বাংলাদেশের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনায় সিপিডির সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান এসব কথা বলেন। সিপিডি ও জার্মান উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এফইএস যৌথভাবে এই ওয়েবিনারের আয়োজন করে।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ থেকে বাণিজ্যমন্ত্রীসহ চার সদস্যর একটি প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করবে। সম্মেলনটি ২০১৯ সালে কাজাখস্তানে হওয়ার কথা ছিল। করোনার কারণে তা হতে পারেনি।

ওয়েবিনারে বলা হয়, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের জন্য নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা কিভাবে করা হবে, এটাই হবে এমসিতে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। কারণ বাংলাদেশের ২০২৬ সালে গ্র্যাজুয়েশন (এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ) হবে। গ্র্যাজুয়েশনের পর বাংলাদেশের দুটি জায়গায় অভিঘাত সৃষ্টি হবে উল্লেখ করে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এর একটি হবে অভ্যন্তরীণ এবং অন্যটি বৈশ্বিক। অভ্যন্তরীণ খাতে সরকার নীতি সহায়তা হিসেবে রপ্তানিতে ভর্তুকি দেয়; উন্নয়নশীল দেশ হলে সেই ভর্তুকি দেওয়া যাবে কি না বিষয়টি আলোচনায় আসবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের পণ্য বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশে শর্তের জাল বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিভিন্ন অগ্রাধিকার সুবিধায় বাংলাদেশ ৭০ শতাংশ পণ্য রপ্তানি করে। উত্তরণের পর প্রস্তুতি না থাকলে, শূন্য শুল্ক হারালে দেশের ৯০ শতাংশ রপ্তানি আয়ে ক্ষতির প্রভাব পড়বে। ওই সময় ১২ শতাংশ শুল্ক দিয়ে ঢুকতে হবে বৈশ্বিক বাজারে।

তিনি বলেন, গ্র্যাজুয়েটিং এলডিসি হিসেবেও দেশগুলো নতুন সহায়তা পায়। সেই সুবিধা কিভাবে আদায় করতে পারে, সে বিষয়ে সরকার সম্মেলনে গুরুত্ব দিতে পারে। এ ছাড়া ২০২০ সালে বাংলাদেশ ১২ বছরের জন্য এলডিসির সুবিধা অব্যাহত রাখার জন্য প্রস্তাব দেয়। এ বিষয়ও তুলে ধরতে পারে।

ড. মোস্তাফিজ বলেন, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পরও বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা আছে গ্র্যাজুয়েট দেশগুলোর জন্য। এর কোনোটি তিন বছর, কোনোটি পাঁচ বছর। বাংলাদেশকে এসব সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্বনেতারাও জানেন, গ্র্যাজুয়েট হলেও দেশগুলোর অনেক দুর্বলতা থাকবে এবং করোনার অভিঘাত তো আছেই। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এরই মধ্যে তিন বছরের জন্য সহায়তা করার ঘোষণা দিয়েছে।

ইউএনডিপিতে কর্মরত অর্থনীতিবিদ ড. নাজনিন আহমেদ বলেন, এবারের এমসি-১২-এ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন বড় ইস্যু হবে। কেননা জাতিসংঘের সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি শেষ ঘোষণায় গ্র্যাজুয়েট দেশগুলোর জন্য বিশেষ সহায়তা অব্যাহত রাখার কথা বলেছিল। বিষয়টি মাথায় রেখে সরকারকে সময়োপযোগী ও সহজ কৌশল নিয়ে কাজ করতে হবে।

অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে ছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি মো. ফারুক হাসান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডাব্লিউটিও সেলের মহাপরিচালক হাফিজুর রহমান এবং বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সাবেক সদস্য ড. মোস্তাফা আবিদ খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী।



সাতদিনের সেরা