kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

‘আগে টিকা ঝামেলার মনে হইত’

বস্তিতে টিকাদান শুরু

মোবারক আজাদ   

১৭ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘আগে টিকা ঝামেলার মনে হইত’

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে গতকাল টিকা নিতে আসা নারীদের দীর্ঘ লাইন। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘এত দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে ভিড় ছিল। আগে টিকার রেজিস্ট্রেশন করা ঝামেলার কাজ মনে হইত। তাই কোথাও টিকা দিতে যাইনি। এহন যেহেতু বাড়ির কাছে সহজে টিকা পাওয়া যাচ্ছে, তাই দিতে আইছি।

বিজ্ঞাপন

’ গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানী কড়াইল বস্তি এলাকায় এরশাদ স্কুলমাঠে করোনার টিকা নিতে আসা বস্তির বাসিন্দা ভ্যানচালক তৌহিদুল ইসলাম এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন।  

মানুষের বাসায় কাজ করেন কড়াইল বস্তির বেলতলা এলাকার সখিনা আক্তার। তিনি বলেন, ‘বাবুর বাবা (স্বামী) কইছে, এদিকে কোনো না কোনো দিন করোনার টিহার (টিকা) দেওয়ার ব্যবস্থা হইবি। তখন টিহা দেওয়া যাইবে। ঠিকই হের কথা সত্য হইল। গতকাল (সোমবার) নেতারা কার্ড দিয়া গেছে। সক্কাল সক্কাল আইসা লাইনে দাঁড়াইলাম, এক ঘণ্টার মধ্যেই টিহা দিয়ে দিলাম। ’

এত দিন কেন টিকা দেননি জানতে চাইলে টিকা দিতে আসা বউবাজার এলাকার মুখলেছ মিয়া বলেন, ‘আগে এমন সুযোগ না থাকায়, টিকা দেওয়া হয়নি আমগোর। সরকার আমগোর ফির তাহাইছে। তাই সহজে টিকা দিতে পারছি। ’

করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে রাজধানীর বস্তিগুলোতে গণটিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। এর অংশ হিসেবে গতকাল মহাখালীর করাইল বস্তিতে গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে টিকা নিতে আসা মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ৯টায় কড়াইল এরশাদ স্কুলমাঠ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বস্তিবাসীর দীর্ঘ লাইন। এতে পুরুষদের চেয়ে নারীর উপস্থিতি অনেক বেশি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে ১৫ বছরের ওপরে যেকোনো বস্তিবাসীর জন্য টিকা দেওয়া শুরু হয়।

কড়াইল বস্তির ১১টি কেন্দ্রে ২৫টি বুথ স্থাপন করা হয়েছে। এসব বুথে ১২ জন টিকাদানকর্মী এবং ২৪ জন করে রেড ক্রিসেন্টের কর্মী স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করছেন। তবে কড়াইলে টিকাদান কর্মসূচির বেজ ক্যাম্প করা হয়েছে এরশাদ স্কুলমাঠে।

এরশাদ স্কুলকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা রেড ক্রিসেন্টের কভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচির কারিগরি পরামর্শক মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘টিকা কর্মসূচি সকাল ৯টায় শুরু হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলেছে। এই কেন্দ্রে ছয়টি বুথ রয়েছে। তিনটি নারী বুথ ও তিনটি পুরুষ বুথ। এতে ১২ জন টিকাকর্মী কাজ করছেন। আজ থেকে ১০ হাজার করে টিকা দেওয়া হবে। বাজেট অনুযায়ী এক লাখ পর্যন্ত যত দিন না হয়, তত দিন টিকাদান কর্মসূচি চলবে। ’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, টিকার জন্য যাঁরা নিবন্ধন করেছেন, তাঁদের পাশাপাশি যাঁদের নিবন্ধন নেই, তাঁরাও জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা জন্ম নিবন্ধন দেখিয়ে টিকা নিতে পারছেন। এখানে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকাদান কর্মসূচির পরিচালক ডা. শামসুল হক বলেন, ‘কড়াইলে বস্তিবাসীদের টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছি। পুরো বস্তিবাসীকে টিকা দিতে যে কদিনই লাগে, এ কার্যক্রম চলবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের বস্তিগুলো টিকার আওতায় আসবে। ’

এরশাদ স্কুলমাঠ কেন্দ্র পরিদর্শনে ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, গতকাল ১৫ হাজার টিকা এসেছে। আজ বুধবার থেকে ২০ হাজার করে টিকা মজুদ থাকবে। বস্তির কমপক্ষে ৮০ শতাংশ মানুষের করোনা টিকা গ্রহণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে।



সাতদিনের সেরা