kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ মাঘ ১৪২৮। ২৭ জানুয়ারি ২০২২। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

পূর্ণিমা এখন কোথায় যাবে

ফতুল্লা বিস্ফোরণ

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৪ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পূর্ণিমা এখন কোথায় যাবে

ফতুল্লায় বিস্ফোরণে মাকে হারিয়েছে ১১ বছরের পূর্ণিমা। গত বছর বাবাকেও হারিয়েছে। তার আপনজন বলতে এখন শুধু বৃদ্ধ ঠাকুমা ও একমাত্র ছোট বোন। শোক ভুলে তার দুশ্চিন্তা এখন একটাই—সংসার কিভাবে চলবে? মুহূর্তের মধ্যেই পৃথিবীতে কঠিন এক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে পূর্ণিমা।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবারের বিস্ফোরণে প্রাণ হারানো পূর্ণিমার মা মঙ্গলী রানীর মরদেহ ওই দিন রাতেই জেলার মাসদাইরে সৎকার করা হয়েছে। ফতুল্লায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন মঙ্গলী। দুই মেয়ে ও শাশুড়িকে নিয়ে থাকতেন শিয়াচরের একটি ভাড়া বাসায়। তাঁদের গ্রামের বাড়ি সিলেটের ছাতকে। অসুস্থ স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার খোঁজে এক বছর আগে ফতুল্লায় এসেছিলেন মঙ্গলী।

পূর্ণিমার জন্ডিস হয়েছে। শুক্রবার তাকে নিয়ে কবিরাজের কাছে যাচ্ছিলেন মা মঙ্গলী রানী। পাঁচতলা ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় গ্যাস বিস্ফোরণে দেয়ালচাপায় নিহত হন মঙ্গলী। আহত হয় পূর্ণিমাও। গতকাল মাকে মর্গে রেখেই বাড়ি ফেরে পূর্ণিমা। সে কালের কণ্ঠকে বলে, ‘আমারে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসছে সবাই। তয় টাকার লেইগা আমার পা ব্যান্ডিজ করতে পারে নাই, খালায় (প্রতিবেশী) কইছে পড়ে করব। ’

পূর্ণিমা কালের কণ্ঠকে জানায়, বাবার মৃত্যুর পর মা সংসারের হাল ধরেন। স্থানীয় একটি স্কুলে ভর্তি হয়েছিল পূর্ণিমা। চারজনের সংসার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন মা। সংসারের খরচ জোগাতে স্কুল ছেড়ে মায়ের সঙ্গে সেও পোশাক কারখানায় কাজে যোগ দেয়।

গতকাল পূর্ণিমার ঠাকুমা জানান, ‘আমি এই বুড়া বয়সে নাতনি দুইটারে নিয়া এখন কই যামু। ’ মঙ্গলী রানীর বোনজামাই নগেন্দ্র বিশ্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, পুরো পরিবারটাই এখন নিঃস্ব হয়ে গেল। ছোট দুটি বাচ্চার ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার।

এদিকে পূর্ণিমার চিকিৎসার জন্য ২৫ হাজার টাকা সহায়তা দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফা জহুরা। তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, ছাতকের ইউএনওকে ফোনে অনুরোধ করা হয়েছে তিনি যেন পূর্ণিমাকে থাকার জন্য একটি বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেন।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সকালে ফতুল্লার লালখাঁ বাজার এলাকায় একটি পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় গ্যাস বিস্ফোরণে দুই নারী নিহত হন। আহত ও দগ্ধ হন শিশুসহ ১৬ জন। এ ঘটনায় নিহত দুজনের পরিবারকে শেষকৃত্যের জন্য ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।



সাতদিনের সেরা