kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি ক্যাবের

বিপিসি-জ্বালানি বিভাগের বিরুদ্ধে আইন ভঙ্গের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ নভেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আইন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিল বলে দাবি করেছে কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। জ্বালানি বিভাগও আইনের বিপরীতে গিয়ে সেই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে বলে জানায় তারা।

গতকাল এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করে ক্যাব। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরকারি প্রজ্ঞাপন বাতিল বা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ক্যাব বলছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আমলাতান্ত্রিক, রাজনৈতিক নয়।

বিজ্ঞাপন

এখানে ব্যাবসায়িক দিক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, সরকারের কাজ ব্যবসা করা নয়। তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের সঙ্গে পরিবহন ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তও বাতিলের দাবি জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনটি। অন্যথায় আইনের আশ্রয়ের কথা বলে তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি বাজারকে অস্থির করে তুলবে, মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। এমনিতেই করোনার কারণে মানুষের আয় কমে গেছে।

সংগঠনটির সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, যখন কেউ দাবির কথা শোনে না, তখন একমাত্র পথ হচ্ছে আইনের আশ্রয় নেওয়া। সরকার হাজার হাজার কোটি টাকা বিপিসির কাছ থেকে নিয়েছে। সেই টাকা দিয়ে তেলের দাম স্থিতিশীল রাখার তহবিল গঠন করা হোক।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আইন ২০০৩-এর ৪২ ধারা মতে, বিইআরসি আইন লঙ্ঘন একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সে অপরাধের শাস্তি অর্থদণ্ড কিংবা কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড। বিইআরসি আইনের ৩৪(৪) উপধারা মতে, পেট্রোলিয়াম পণ্যসহ সব জ্বালানির মূল্য অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে নির্ধারণের একক এখতিয়ার বিইআরসির। বিপিসি বিইআরসির লাইসেন্সি তথা অধীন প্রতিষ্ঠান।

লাইসেন্সি হিসেবে মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব বিপিসিকে আইনের ৩৪(৬) ধারা মতে বিইআরসির কাছে পেশ করতে হবে। কিন্তু বিপিসি বিইআরসির পরিবর্তে ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পেশ করে। জ্বালানি বিভাগ তাতে সায় দিয়ে মূল্যবৃদ্ধি করে। অর্থাৎ বিপিসি আইন লঙ্ঘন করে এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে ওই মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব জ্বালানি বিভাগে পেশ করে এবং জ্বালানি বিভাগ ৩৪(৪) উপধারা লঙ্ঘন করে সে প্রস্তাব মতে মূল্যবৃদ্ধি করে। সুতরাং বিইআরসি আইন লঙ্ঘনের  অপরাধে বিপিসি এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং মূল্যবৃদ্ধির আদেশ পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার আইনের ৪৭ ধারা মতে বিইআরসির।



সাতদিনের সেরা